সুপ্রিম কোর্টে পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রানি, কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির কাছে জবাব তলব

শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও আটটি রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতিদের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। তবে এখনই শ্রমিকদের ডিটেনশন বন্ধ করার বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে আদালত।

আদালত জানিয়েছে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এমন হওয়া উচিত যাতে প্রকৃত নাগরিকরা হেনস্তার শিকার না হন। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যারা সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করার অধিকার রাজ্যগুলির রয়েছে। আইনের বলে অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই সঠিক পদক্ষেপ বলে আদালত মনে করে।

পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় কথা বলার কারণে বহু শ্রমিকের কাছে বৈধ নথি যেমন আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে ডিটেনশন বন্ধ করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির আবেদন জানান।

তবে বেঞ্চ এই আবেদন এখনই মঞ্জুর না করে প্রশান্ত ভূষণকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। একইসঙ্গে আদালত ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও হরিয়ানা, এই আটটি রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কাছেও এই বিষয়ে জবাব চেয়েছে।

উল্লেখ্য, রুজির টানে বহু পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশা, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে যান। সম্প্রতি এই রাজ্যগুলিতে তাঁদেরকে বাংলাভাষী হওয়ার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে হয়রানি ও আটকে রাখার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বহু শ্রমিক কাজ ছেড়ে নিজেদের গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। রাজ্যগুলির এই আচরণের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছিলেন। এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াল।