“বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দেওয়া যাবে না”- কন্যাশ্রী দিবসে সরব মমতা

কন্যাশ্রী দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও বাংলার মর্যাদা ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিযায়ী শ্রমিক এবং বাংলা থেকে যাওয়া মানুষদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর অভিযোগ, অনেক সময় শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা ভারতবর্ষের বাসিন্দা নন, তাঁদের নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি তকমা দেওয়া যাবে না।” তিনি উদাহরণ হিসেবে নয়ডার একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে একজন প্রযুক্তিবিদকে তাঁর ছেলের সঙ্গে হোটেলে থাকতে দেওয়া হয়নি, কারণ তাঁরা বাংলায় কথা বলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আমি যদি আপনার ভাষাকে সম্মান করি, আপনি কেন আমার ভাষাকে সম্মান করবেন না?”

কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাফল্য ও বাংলার ঐতিহ্য
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রীদের প্রতি মাতৃভাষা বাংলাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাঞ্জাব ও বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর কথায়, স্বাধীনতা সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল পাঞ্জাবের, তারপর ছিল বাংলার স্থান। আন্দামানের সেলুলার জেলে আজও এই দুই রাজ্যের বিপ্লবীদের সংগ্রামের স্মৃতি অম্লান। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, স্বামী বিবেকানন্দ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্রের অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ড্রপআউট হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উচ্চমাধ্যমিকে ড্রপআউট হার ১৫.৪২ শতাংশ থেকে কমে ৩.১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে ৯৩ লক্ষ ছাত্রী এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে এবং আগামী বছর এই সংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ পর্যন্ত প্রকল্পে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

আত্মনির্ভর হওয়ার আহ্বান
মেয়েদের দ্রুত বিয়ে না-দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং আত্মনির্ভর হতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সবুজসাথী প্রকল্পে সাইকেল বিতরণ এবং গবেষণার জন্য ইউজি সি অনুদান বন্ধ হওয়ায় রাজ্য সরকারের অর্থায়নের কথাও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর কন্যাশ্রী প্রকল্প ১২ বছরে পা দিল। মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সকলের গর্বের কন্যাশ্রী প্রকল্প আজ ১২ বছরে পা দিল। নারীর ক্ষমতায়নে এত কম সময়ে এত বড় প্রভাব অন্য কোনো সরকারি প্রকল্প ফেলতে পারেনি।” ইউনেস্কো স্বীকৃত এবং রাষ্ট্রসংঘ পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত রাজ্যের ৯৩ লক্ষাধিক ছাত্রী উপকৃত হয়েছে, যাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় সাড়ে সতেরো হাজার কোটি টাকা।