BJP এই কাজ করলে ‘এক মিনিটে পদত‍্যাগ করব…’ বিস্ফোরক অভিষেক! দিলেন বড় চ্যালেঞ্জ

বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুরের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানান, বিজেপির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে তিনি নিজের লোকসভা কেন্দ্রের এক ঠিকানায় ৪৭ জন ভোটারের ভিডিও প্রকাশ করবেন। একইসঙ্গে, ‘সিস্টেম্যাটিক ইনফরমেশন রেসপন্স’ (SIR) পদ্ধতি কার্যকর করতে হলে আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়ার দাবিতে তিনি অনড়।

সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, “বিজেপি লিখিতভাবে দিক ওদের সব সাংসদরা পদত্যাগ করবে। আমি এক মিনিটে পদত্যাগ করে দেব। আমরা বলতে পারছি, কারণ আমাদের ভয় নেই। যতবার নির্বাচন করাক।” তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, রাজ্যে কোনোভাবেই এসআইআর করতে দেওয়া হবে না, যদি না কিছু শর্ত মানা হয়।

অভিষেকের শর্তাবলী
সূত্র অনুযায়ী, অভিষেকের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্তের কথা বলা হয়েছে:

সবার জন্য এসআইআর: শুধুমাত্র যে রাজ্যগুলোতে নির্বাচন রয়েছে, সেখানে নয়, সব রাজ্যে একসঙ্গে এসআইআর চালু করতে হবে।

ভোটার তালিকা ডিজিটাইজড: ভোটার তালিকা ডিজিটালাইজড করতে হবে।

দায় চিহ্নিতকরণ: ভোটার তালিকায় সমস্যা থাকলে তার দায় কার, তা চিহ্নিত করতে হবে।

সাবেক কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর: পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর করে তাঁকে গ্রেফতার করাতে হবে।

লোকসভা ভেঙে দেওয়া: এই শর্তগুলো মেনেও যদি কমিশন এসআইআর করতে চায়, তাহলে আগে লোকসভা ভেঙে দিতে হবে।

অভিষেক ঘনিষ্ঠ মহলে আরও বলেছেন যে, যদি এই শর্তগুলো মানা না হয়, তাহলে বাংলায় এসআইআর করতে দেওয়া হবে না। তখন শুধুমাত্র তৃণমূল কর্মীরা নয়, সাধারণ মানুষও এসআইআরের বিরোধিতায় পথে নামবে। প্রয়োজনে দিল্লিতেও আন্দোলন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্র বারাণসীতেও এসআইআর করার দাবি তুলেছেন অভিষেক।

জোট এবং আন্দোলনের বার্তা
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক কিছুটা ভালো হলেও, রাজ্যে এখনই জোটের সম্ভাবনা কম। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে দেওয়ার মতো তেমন কিছু ‘অফার’ তাদের নেই। তাঁরা আরও মনে করছেন, উত্তরবঙ্গে সরকার যেসব কাজ করেছে, তার প্রচার ঠিকমতো হয়নি, তাই সেখানে বিজেপি কিছুটা এগিয়ে ছিল। এখন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁরা এই বিষয়ে আরও নজর দিতে চান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মানুষ পথে নামলে সরকারকেও পিছু হটতে হয়, যেমনটা সিএএ এবং কৃষি বিলের ক্ষেত্রে ঘটেছে। তিনি বলেন, “যদি জোর করে রাজ্যে এসআইআর করতে গেলে মানুষ যখন বুঝবেন তাঁদের নিজেদের ভোটও চুরি হতে পারে, তখন মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নামবেন।” সূত্রের খবর, তৃণমূল সেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক আন্দোলন গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন।