রাহুলের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের মুখে সনিয়া গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে পাল্টা BJP-র প্রশ্ন, দিল প্রমানও!

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যখন ‘ভোট চুরি’ এবং ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই বিজেপি তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করল। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন যে, ভারতীয় নাগরিক হওয়ার আগেই কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু নথি প্রকাশ করে লেখেন, “সনিয়া গান্ধীর নাম ১৯৮০ সালে ভারতীয় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, যা তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার তিন বছর আগের কথা। সেই সময় তিনি ইতালিরই নাগরিক ছিলেন।” মালব্য আরও জানান, ১৯৮০ সালে নয়াদিল্লি সংসদীয় আসনের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় সনিয়ার নাম যুক্ত করা হয়, যা স্পষ্টতই ভারতীয় নির্বাচন বিধির চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

মালব্যের দাবি, আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে তাঁকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে ব্যাপক প্রতিবাদের পর সনিয়া গান্ধীর নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হলেও ১৯৮৩ সালে আবার তাঁর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়। মালব্য আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৮৩ সালের নতুন সংশোধনীতে সনিয়ার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যদিও তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালের ৩০ এপ্রিল।

অমিত মালব্য তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন যে, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিয়ের ১৫ বছর পরেও কেন সনিয়া গান্ধী ভারতীয় নাগরিকত্ব নিতে তৎপর হননি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী পরিসংখ্যান তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এনেছিলেন। এর প্রতিবাদে সোমবার বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এরপরেই বিজেপি সনিয়া গান্ধীর নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে এই বিতর্ককে আরও এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।