‘আমি বিষয়টি দেখব’, পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিতর্ক, খতিয়ে দেখবেন বললেন CJI

দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে পদক্ষেপ নিতে চলেছে। পথকুকুরদের নির্বীজকরণ ও প্রতিষেধক দেওয়ার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বুধবার প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
সম্প্রতি দিল্লি এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নে (NCR) কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশে বলা হয়, আট সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি ও এনসিআর-এর সমস্ত পথকুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট পশু আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। সেখানে তাদের নিয়মিত নির্বীজকরণ এবং প্রতিষেধক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে এই রায়ের পর পশুপ্রেমী মহল থেকে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই-এর কাছে আবেদন জানানো হয়, যাতে নির্বীজকরণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন যে, দিল্লি পুরসভা কর্তৃপক্ষ রাস্তার কুকুরের নির্বীজকরণের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না, যার ফলে আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। তারা ২০২৪ সালের একটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি গাভাই জানান, যেহেতু এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি রায় দেওয়া হয়েছে, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এই রায়কে কেন্দ্র করে সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মানুষ সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, কারণ তাদের মতে, এটি জনসুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো এই ধরনের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবার জন্য আবেদন জানাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে এই সমস্যার একটি কার্যকর এবং সুষম সমাধান হয় কি না।