আধার কার্ড কি আপনার নাগরিকত্বের প্রমাণ? স্পষ্ট বার্তায় যা জানালো সুপ্রিম কোর্ট

আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না—নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নাগরিকত্বের প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “নির্বাচন কমিশন ঠিকই বলেছে যে আধার নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এটি যাচাই করা প্রয়োজন।” তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বলের উদ্দেশে এই কথা বলেন, যিনি মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
আদালত প্রথমে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি বলেন, “আমাদের প্রথমে দেখতে হবে যে এই যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতা কমিশনের আছে কি না। যদি না থাকে, তবে এখানেই সব শেষ। কিন্তু যদি এই অধিকার থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।”
কপিল সিব্বলের যুক্তি ও অভিযোগ
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে অভিযোগ করেন যে নির্বাচন কমিশনের এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দিতে পারছেন না, তারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবেন। তিনি জানান, এমনকি ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম ছিল, তাদেরও নতুন করে ফর্ম জমা দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় ঠিকানা পরিবর্তন না হলেও তাদের নাম কেটে দেওয়া হবে।
কপিল সিব্বলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের তথ্যে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ মানুষ ফর্ম জমা দিয়েছেন, কিন্তু ৬৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, এই বাদ পড়ার পেছনে মৃত্যু বা স্থানান্তরের কোনো যথাযথ তদন্ত হয়নি। তিনি বলেন, “কমিশনের হলফনামাতেই বলা আছে, কোনো ধরনের সমীক্ষা চালানো হয়নি।”
৬৫ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
আদালত এই ৬৫ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বেঞ্চ জানতে চায় যে এই পরিসংখ্যান বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, নাকি এটি অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। বিচারপতিরা বলেন যে যারা ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাদের নাম ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে।
এছাড়াও, মামলাকারীদের আরেক আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেন যে মৃত্যু বা ঠিকানা বদলের কারণে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা আদালত বা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “তারা বলছেন কিছু তথ্য বুথ-লেভেল এজেন্টদের দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্য কাউকে তা জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”
আদালত এ বিষয়ে জানতে চায় যে যাদের নথি অসম্পূর্ণ, তাদের কি যথাযথভাবে তা জানানো হয়েছে? এই রায় থেকে স্পষ্ট যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আধার কার্ড দেখালেই তা যথেষ্ট হবে না, বরং নাগরিকত্বের প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা আবশ্যক।