রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ

রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ-প্রশাসনকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের একটি বৈঠকে আচমকাই হাজির হয়ে তিনি বলেন, শুধু থানার আইসি বা ওসিদের ওপর ভরসা করলে হবে না, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদেরও সরাসরি দায়িত্ব নিতে হবে।
সম্প্রতি হুগলি, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও কোচবিহার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দলের একাধিক নেতা খুন হয়েছেন। কোন্নগরে প্রকাশ্য রাস্তায় এক তৃণমূল নেতাকে কোপানো, বাঁকুড়ায় রাতের বেলা বুথ কনভেনারকে গুলি করে খুন, এবং কোচবিহারে দিনের বেলায় পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা রাজ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বারুইপুরেও এক বিজেপি বুথ সভাপতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ সুপার (এসপি), কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার (সিপি), আইসি এবং ওসিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেককে সরাসরি তদারকি করতে হবে। গোয়েন্দা বিভাগকে (ইন্টেলিজেন্স) আরও সক্রিয় হতে হবে এবং কেন তারা আগে থেকে খবর পাচ্ছে না, তার কারণ জানতে হবে।”
‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে প্রকৃত সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পগুলোর প্রচার, সহজে পৌঁছনোর জায়গা এবং সমস্যা সমাধানে লোকেশনভিত্তিক নজরদারির ওপর জোর দেন তিনি।
এছাড়াও, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শ্রমিকদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষক বন্ধু-সহ সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিডিওদের সরাসরি দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা থেকে স্পষ্ট, তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও খুনের মতো ঘটনাকে দ্রুত রুখতে চান। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্দেশ পুলিশ-প্রশাসনের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করবে এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে সহায়তা করবে।