পুজোর আগে চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাসের দাবি, পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলো একজোট

আসন্ন দুর্গাপূজার আগে চা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ হারে বোনাসের দাবিতে পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক দল একজোট হয়েছে। অনিত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা থেকে শুরু করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, জিএনএলএফ, ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এবং সিটু-এর মতো শাসক ও বিরোধী সব দলই এই দাবিতে অনড় রয়েছে।
অনিত থাপা বলেন, “এবার চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস দিতেই হবে। শ্রমিকরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। পুজো এলেই বোনাস নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়, যা আমরা আর মানব না।” তিনি দলের শ্রমিক সংগঠনকে ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে দৃঢ় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বছর মালিকপক্ষ চা শ্রমিকদের ১৬ শতাংশ হারে বোনাস দিয়েছিল, যা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এমনকি শ্রম দফতরের নির্দেশনার পরও অনেক শ্রমিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিল। সেই জটিলতা এখনও পুরোপুরি মেটেনি, আর এরই মধ্যে নতুন করে ২০ শতাংশ বোনাসের দাবি উঠেছে।
চা বাগান মালিকদের সংগঠন অবশ্য এই দাবিকে অবাস্তব বলে মনে করছে। তাদের যুক্তি, এই বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চায়ের উৎপাদন কমেছে এবং নিলামেও দাম কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। মালিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্জল দে এবং সিটু নেতা সমন পাঠক উভয়েই ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, গত বছর পরিস্থিতি বিবেচনা করে কম বোনাস মেনে নেওয়া হলেও এবার আর কোনো অজুহাত মানা হবে না। মালিকদের সংগঠন তরাই ব্রাঞ্চ অফ দ্য ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (টিবিআইটিএ)-এর সচিব রানা দে জানান, গত বছরের তুলনায় এবার জুলাই পর্যন্ত তরাইয়ে চায়ের উৎপাদন অনেক কম হয়েছে এবং দামও কমেছে, তাই এই দাবি পূরণ করা কঠিন।
এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে শ্রম দফতর কী পদক্ষেপ নেয় এবং পুজোর আগে চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে চলমান এই টানাপোড়েন কীভাবে নিষ্পত্তি হয়।