ভুয়ো ভোটার লিস্ট বিতর্কে নরম রাজ্য, কমিশনকে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার চিঠি,

ভুয়ো ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের পরও কঠোর ব্যবস্থা নিল না রাজ্য সরকার। সোমবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত দেওয়া ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যসচিব নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান যে, অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে কাউকে সাসপেন্ড করা বা এফআইআর দায়ের করা হয়নি। শুধুমাত্র দুজনকে কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চার অফিসার এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ও সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল। অভিযোগ ছিল, বারুইপুর পূর্ব এবং ময়নার ভোটার তালিকায় এমন কিছু অফিসারের নাম যুক্ত করা হয়েছে যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন বারুইপুর পূর্বের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, এআরও তথাগত মণ্ডল, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার, এআরও সুদীপ্ত দাস এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

কমিশন পরপর তিনবার মুখ্যসচিবকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল এবং সোমবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার কমিশনকে যে চিঠি দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে এআরও সুদীপ্ত দাস এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন কমিশনের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের অনেক দায়িত্ব থাকে এবং শুধুমাত্র কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো তদন্ত ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্যান্য অফিসারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “কোনও অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আমি প্রাণ দিয়ে রক্ষা করব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।