‘ভোট চুরি’র প্রমাণ দিন অথবা ক্ষমা চান’- রাহুলকে কড়া হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের!

‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, রাহুল গান্ধী হয় তার অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিন, নয়তো দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চান। রবিবার কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) রাহুল গান্ধীকে তার অভিযোগের স্বপক্ষে নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।
কর্ণাটক ও হরিয়ানায় পদক্ষেপ
কর্নাটকের সিইও-এর ১০ই আগস্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী গত ৭ই আগস্ট এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন যে, একজন ভোটার, সুকুন রানী, দুবার ভোট দিয়েছেন। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে সুকুন রানী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিইও আরও জানিয়েছেন যে, রাহুল গান্ধী যে নথি দেখিয়েছেন, সেটি পোলিং অফিসারের দেওয়া নয়, যা তার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্ণাটকের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ রাহুল গান্ধীকে তার অভিযোগের সপক্ষে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র জমা দিতে অনুরোধ করেছে যাতে একটি বিস্তারিত তদন্ত করা যায়। একইভাবে, হরিয়ানার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাও রাহুল গান্ধীকে একটি হলফনামা জমা দিতে বলেছেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ
৭ই আগস্ট রাহুল গান্ধী সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন যে, কর্ণাটকে কংগ্রেস ১৬টি লোকসভা আসন জেতার আশা করলেও, শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯টিতে জিতেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাতটি অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের মধ্যে মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ভোট চুরি’ হয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের প্রায় ১০০,২৫০ ভোট চুরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা পাঁচটি ভিন্ন উপায়ে ১ লক্ষ ২৫০ ভোটের চুরি পেয়েছি, যার মধ্যে নকল ভোটার, জাল ঠিকানা এবং একটি ঠিকানায় ৫০-৬০ জন মানুষের থাকার মতো বিষয় রয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ওই বাড়িতে এমন কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই।”
জাতীয় নির্বাচন কমিশন শনিবার আবারও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নিয়ম অনুযায়ী তার অভিযোগের বিষয়ে হলফনামা দিতে বলেছে অথবা ভোটার তালিকা নিয়ে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ তোলার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছে।