ভোট চুরি নিয়ে বৈঠকে রাজি, কংগ্রেসের জয়রাম রমেশকে ‘আমন্ত্রণ’ জানালো নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা নিয়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার নির্বাচন কমিশন দফতর ঘেরাওয়ের কর্মসূচির ঠিক আগেই, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠিয়েছে কমিশন। আজ দুপুর ১২টায় এই বৈঠক হওয়ার কথা।
কমিশন রমেশকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছে, “আজ দুপুর ১২টায় বৈঠকের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অফিসে ৩০ জনের বেশি বসার জায়গা নেই। যারা বৈঠকে যোগ দেবেন, তাদের নাম এবং গাড়ির নম্বর জানান।” তবে এই বৈঠকের ডাকে জয়রাম রমেশ সাড়া দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলো তাদের ঘোষিত ঘেরাও কর্মসূচি বাতিল করবে কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
বিরোধী দলগুলো আজ সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে কমিশনের দফতর ঘেরাও করার পরিকল্পনা করেছে। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, মালয়লাম, তামিলসহ বিভিন্ন ভাষায় প্ল্যাকার্ড লিখে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বাংলা ভাষায় প্ল্যাকার্ড তৈরি করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই মিছিলের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় যখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলেন। তিনি বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এর সপক্ষে একাধিক ‘প্রমাণ’ পেশ করেন। এর জবাবে নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে, তিনি যেন তার অভিযোগ সংক্রান্ত বিবৃতি সই করে জমা দেন। অন্যথায়, তাকে দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আজকের বৈঠকে প্রধানত রাহুল গান্ধীর অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। তবে কংগ্রেস ছাড়া অন্য বিরোধী দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক কমিশনের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সম্পর্ক এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।