হাঁটু গেড়ে নিচে বসে হাসপাতালের কর্মীরা, মাথায় ঠেকানো বন্দুক! ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সিরিয়ায়, তারপর যা হলো?

দক্ষিণ সিরিয়ার একটি হাসপাতালের মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন হাসপাতালের কর্মীরা, তাঁদের মাথায় ঠেকানো হয়েছে বন্দুক। সম্প্রতি সামনে আসা সিসিটিভি ফুটেজে এমন এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছে বিশ্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সশস্ত্র একদল লোক হাসপাতালের কর্মচারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে এবং তাঁদের গুলি করছে।

ফুটেজে ধরা পড়ল হামলার বীভৎসতা
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মেডিকেল পোশাক পরিহিত একদল কর্মীকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসানো হয়েছে। এক সশস্ত্র ব্যক্তি একজন কর্মীকে ধরে মাথায় আঘাত করছে, যেন তাকে আটক করা হচ্ছে। যখন সেই কর্মী প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন, তখন তাকে খুব কাছ থেকে পরপর দুবার গুলি করা হয়—প্রথমে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে এবং পরে অন্য একজন পিস্তল দিয়ে। ফুটেজে আরও গুলি চালানোর দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তি মেঝেতে পড়ে আছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে যে, সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (SOHR) কর্তৃক প্রকাশিত এই ভিডিওতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের অনুগত যোদ্ধারা হাসপাতালের কর্মচারীদের হত্যা করেছে। যদিও এই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সুয়েইদা প্রদেশের সংঘাত
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন সিরিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সেনার মদতে শুক্রবার সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়ের বসতি সুয়েইদা প্রদেশে সুন্নি বেদুইন জঙ্গিরা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এই দুই পক্ষের লড়াইয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

এর আগে আমেরিকা, তুরস্ক এবং আরব দেশগুলির মধ্যস্থতায় দ্রুজদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে সিরিয়া সরকার সুয়েইদা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে এই হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতা সেই চলমান সংঘাতেরই এক করুণ প্রতিফলন।