‘বেঁচে থাকতে মূল্য দেয়নি, লাশের পাশেও যেন না কাঁদে’, ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে ‘আত্মঘাতী’ যুবক, নেপথ্যে কি কারণ?

প্রেমের সম্পর্ক এবং ব্ল্যাকমেলের জেরে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে হাওড়ার শিবপুরের এক যুবকের বিরুদ্ধে। রাজা ঢালি (২১) নামে ওই যুবককে তাঁর ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই কিশোরীই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করত। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ওই কিশোরীর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবপুরের গোলাম হোসেন সর্দার লেনের বাসিন্দা রাজা ঢালি প্রায় দেড় বছর ধরে ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। পরিবারের দাবি, ওই কিশোরীর আরও একজন প্রেমিক ছিল এবং সে প্রেমের নামে রাজাকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করত। শুক্রবার বিকেলে ওই কিশোরী রাজাকে ফোন করে ডাকে। এরপর বাড়িতে ফিরে রাজা নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।

আত্মহত্যার ঠিক আগে রাজা ঢালি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। সেখানে লেখা ছিল, “আমি হারিয়ে যেতে চাই সাদা কাপড়ের ভাঁজে। আমি বেঁচে থাকতে যে মূল্য দিতে পারলো না। সে যেন আমার লাশের পাশে না কাঁদে।” পরিবারের অভিযোগ, এই স্ট্যাটাসটি ছিল মূলত ওই কিশোরীকে উদ্দেশ্য করে।

রবিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজার পরিবার ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত কিশোরীর বাড়িতে চড়াও হন এবং ভাঙচুর চালান। তবে সে সময় কিশোরী এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। খবর পেয়ে শিবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ রাজাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত রাজার দিদি জবা হাজরা জানান, শুক্রবার বিকেলে তাঁর ভাই ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওই কিশোরী তাঁকে ফোন করে ডাকে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ি ফিরে রাজা ঠাকুমাকে চপ আনতে পাঠিয়ে এবং বোনকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে আত্মহত্যা করেন। জবা দেবীর অভিযোগ, ওই কিশোরীর একাধিক বয়ফ্রেন্ড ছিল এবং সে মাদকও সেবন করত। তার ভাইয়ের পাশাপাশি অন্য এক যুবকের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ককে ব্যবহার করেই কিশোরী তাঁর ভাইকে ব্ল্যাকমেল করত। জবা বলেন, “আমার ভাইকে ব্ল্যাকমেল করে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে ওই কিশোরী। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক।”