‘অভিষেকের সঙ্গে দেখা করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি’, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে ডাক পড়তেই বললেন হুমায়ুন

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে এবং আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করতে বৈঠক শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই অংশ হিসেবে সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটে উত্তর দিনাজপুর, বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদের সাংগঠনিক নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন তিনি। এই বৈঠকে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
গত কয়েক মাস ধরে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসা হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে ১৫ই আগস্টের পর নতুন দল গড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এই হুঁশিয়ারির পর এই প্রথমবার অভিষেকের মুখোমুখি হলেন তিনি। বৈঠক শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল, হুমায়ুন কি আদৌ আসবেন? শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর জানান, “সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দশদিন আগেই এই বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন। সুতরাং, আমি যাব না এমনটা হতে পারে না। আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।” নিজের ‘বিদ্রোহ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ১৫ই আগস্টের পর দল খোলার কথা বলেছিলেন, সেই বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ। তিনি বলেন, “সময়ই সব দেখা যাবে।” তবে তিনি আশাবাদী যে নেতৃত্ব তাঁর সম্মানের কথা মাথায় রেখেই যাবতীয় নির্দেশ দেবেন।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে হুমায়ুন-সহ তিন জেলার দশ বিধায়ককে ডাকা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়ার কিছু অংশ নিয়ে নতুন দল গড়ার যে হুঁশিয়ারি হুমায়ুন দিয়েছিলেন, সে বিষয়েই এদিনের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এছাড়াও, বৈঠকে উত্তর দিনাজপুরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং একদা অধীর-গড় বহরমপুরে দলের সংগঠন শক্তিশালী করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, অভিষেক হয়তো বহরমপুর নিয়ে সাংগঠনিক নেতৃত্বদের বিশেষ ‘হোমটাস্ক’ দিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরু থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংগঠনিক বৈঠক শুরু করেছেন। এর আগে তিনি আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং মালদহ জেলার নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। আগামী দিনে অন্যান্য জেলার নেতৃত্বদের নিয়েও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক একদিকে যেমন দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করবে, তেমনি অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের মতো অসন্তুষ্ট নেতাদের সামলে দলীয় ঐক্য বজায় রাখাও অভিষেকের অন্যতম লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, ১৫ই আগস্টের ডেডলাইনের আগে এই বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত উঠে আসে এবং হুমায়ুন কবীরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।