কৃষক স্বার্থে আপস নয়, মার্কিন শুল্কচুক্তি নিয়ে মোদীর কঠোর বার্তা

ভারত-আমেরিকা শুল্ক আলোচনা এখন এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। মাত্র ১৭ দিন হাতে, আর এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করবে না ভারত। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক সংক্রান্ত চাপের মুখেও নয়াদিল্লি যে তার অবস্থানে অবিচল, এই বার্তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ট্রাম্পের শুল্কবাণ ও মোদীর প্রত্যুত্তর:
সম্প্রতি দিল্লিতে এমএস স্বামীনাথন শতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রথমবারের মতো মার্কিন শুল্ক প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারত কখনও কৃষক, গোপালক, মৎস্যজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য আমাকে চড়া মূল্য চোকাতে হবে, কিন্তু আমি তার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।” ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং তারপর রাশিয়ার সঙ্গে তেল কেনার ‘জরিমানা’ হিসেবে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্কটি কার্যকর হবে ২৭ আগস্ট থেকে।
কৃষি পণ্য নিয়ে সংঘাত:
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংঘাতের মূল কারণ হলো কৃষি পণ্য। আমেরিকা ভারত থেকে তাদের তৈরি বিভিন্ন কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ইথানল ও সয়াবিন আমদানি করতে চায়। কিন্তু এই নিয়ে ভারতের আপত্তি রয়েছে।
ইথানল: আমেরিকা চায়, ভারত যেন তাদের ইথানল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু ভারত নিজস্ব ইথানল উৎপাদন করে, যা আখ থেকে তৈরি হয়। দেশীয় ইথানল ব্যবহারের কারণে ভারতীয় আখ চাষিরা লাভবান হন। মার্কিন ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে দেশের আখ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সয়াবিন: আমেরিকা জিনগতভাবে পরিবর্তিত সয়াবিন এবং সয়াবিন তেল ভারতে রপ্তানি করতে চায়। কিন্তু ভারত স্বাস্থ্যগত কারণে এই ধরনের সয়াবিনকে খাদ্যের জন্য অনুমোদন দেয় না।
দুগ্ধজাত পণ্য: পশুপালকদের স্বার্থ রক্ষার্থে ভারত আমেরিকার দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতেও রাজি নয়। এর কারণ, আমেরিকার দুগ্ধ উৎপাদনকারী গরুগুলিকে যে ধরনের গো-খাদ্য খাওয়ানো হয়, তা ভারতের সংস্কৃতি ও নিরামিষাশী সমাজের নীতির পরিপন্থী।
এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারত তার অবস্থান থেকে সরতে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের কৃষক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করতে ভারত প্রস্তুত।