চিতাবাঘের হামলায় মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশে দুইজনের মৃত্যু, শোকের ছায়া

বন্যপ্রাণীর হামলায় দেশজুড়ে আবারও দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় একটি চিতাবাঘের আক্রমণে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে একই ধরনের হামলায় ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনাগুলো মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নাসিকের ঘটনাটি ঘটে রাখিবন্ধন উৎসবের সময়। তিন বছরের শিশু আয়ুষ তার বাড়ির কাছে খেলছিল, তখন একটি চিতাবাঘ তাকে আক্রমণ করে। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির কাছে একটি খামারে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ খুঁজে পান। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকাহত বোন তার মৃত ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগেও এলাকায় চিতাবাঘ দেখা গেলেও বনবিভাগ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার ভিখ্কাওয়ালা গ্রামে খেতে কাজ করার সময় ৩৫ বছর বয়সী পুনমকে একটি চিতাবাঘ আক্রমণ করে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চিতাবাঘটি পুনমকে হত্যা করার পর তার কাঁধের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।
এই দুটি ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বনবিভাগ নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চিতাবাঘ ধরার জন্য ফাঁদ পেতেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের অভাব এবং মানুষের অনুপ্রবেশের কারণেই বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। স্থানীয় মানুষ প্রশাসনের কাছে নিয়মিত টহল, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। এই ঘটনাগুলো আবারও মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের তীব্রতাকে তুলে ধরল।