“আমি মর্মাহত… খতিয়ে দেখা হোক”- নির্যাতিতার মায়ের উপর হামলা নিয়ে যা বললেন চিরঞ্জিত

সম্প্রতি কর্মস্থলে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো এক চিকিৎসকের বাবা-মায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক দোষারোপের পাশাপাশি তদন্তের দাবি উঠেছে খোদ শাসকদল তৃণমূলের অন্দরেও। বারাসাতের তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী বলেছেন, “কে করেছে বোঝা যাচ্ছে না। আগে খতিয়ে দেখা হোক, তারপর বলা যাবে। তবে যাঁরা ওঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের আগলে রাখা উচিত ছিল। আমি খুবই দুঃখিত, মর্মাহত। এর সমাধান হতেই হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে হয় না দোষীরা ধরা পড়েছে। সিবিআই চোখ বন্ধ করে আছে। কেন্দ্রীয় সরকার কী করছে?”
এদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে ওঁরা বহু মিটিং-মিছিলে গিয়েছেন। হঠাৎ বিজেপির মিছিলে গিয়েই আহত হলেন কেন! কাল আপনারা দেখেছেন, বিজেপির ওই ন্যাড়া নাড়ু ধাক্কা মারছে ছবি তোলার জন্য, নির্যাতিতার মাকে ধাক্কা মারছে নিজের মুখ দেখাবে বলে।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনো পুলিশ অভদ্রতা করেছেন বা আঘাত করেছেন, এমন কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নিহত চিকিৎসকের মা সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কথায়, “আমায় মেরেছে। কপালে মেরেছে। অনেক পুলিশ মিলে রাস্তায় ফেলে মেরেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়ে তাঁরা যখন কিছুটা পথ এগিয়েছিলেন, তখনই তাঁদের ওপর মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং শাঁখাও ভেঙে যায়। রবিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্বামীও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমাকেও ধরেছিল, কিন্তু ধরে রাখতে পারেনি। আমার হাত, জামা, কাপড় দেখুন, জুতোর অবস্থা দেখুন, সব ছিঁড়ে ফেলেছে।” তিনি দাবি করেন, জনসংখ্যা থেকে অনেক বেশি পুলিশ ছিল এবং মহিলা পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে টেনে নিয়ে গিয়ে মেরেছে।
এই ঘটনার পর কলকাতার পুলিশ কমিশনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও রাজনৈতিক দোষারোপ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল বিজেপির দিকে আঙুল তুলছে, আর বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। একদিকে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের ক্ষোভ, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের পারস্পরিক অভিযোগ, সব মিলিয়ে আর জি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।