শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে টাস্ক ফোর্স, সেপ্টেম্বরে জমা পড়বে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকাতে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন স্টুডেন্ট মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সুইসাইড প্রিভেনশন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত এই টাস্ক ফোর্সের প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট এই তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার টাস্ক ফোর্সের ওয়েবসাইট উদ্বোধনের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিচারপতি ভাট বলেন, “আগে কিছু কমিটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদন্ত করে সুপারিশ করেছিল, কিন্তু আদালত মনে করে এই সমস্যার একটি জাতীয় চিত্র প্রয়োজন।” এই লক্ষ্যেই গঠিত ১৮ সদস্যের এই টাস্ক ফোর্স ইতিমধ্যেই চারটি বৈঠক করেছে এবং বছরের শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের প্রধান কাজ হলো ছাত্র আত্মহত্যার কারণ চিহ্নিত করা, বর্তমান নীতিমালার ফাঁকফোকর খুঁজে বের করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সুপারিশ তৈরি করা।
রিপোর্ট তৈরির জন্য টাস্ক ফোর্স অনলাইনে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো-সায়েন্সেস (NIMHANS)-এর অধ্যাপক ড. সীতা মেহত্রা জানান, ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক প্রধানদের জন্য আলাদা আলাদা অনলাইন সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যে টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন, যার মধ্যে দিল্লির রামজাস কলেজ, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি এবং বেঙ্গালুরু মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে তাঁরা শিক্ষার ধরন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছেন।
শিক্ষা সচিব বিনীত জোশী বলেন, দেশের ৬০ হাজারের বেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সমস্যা চিহ্নিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিআরবি-র ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩,০৪৪ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে, যা দেশের মোট আত্মহত্যার ৭.৬%। এই সংখ্যা কৃষক বা বেকারদের আত্মহত্যার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যাতে কোনো জীবন নষ্ট না হয় এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে প্রতিটি ছাত্র নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।”
টাস্ক ফোর্সের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।