ভাইয়ের হাতে খুন দাদা, এবার জেলের ভেতর ফাঁসিপ্রাপ্ত আসামির রহস্যজনক মৃত্যু

দাদাকে খুন করার অপরাধে ফাঁসির সাজা পেয়েছিলেন। এবার জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ভিতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। মৃত বন্দির নাম সুরেশ রায় (২৪)। এই ঘটনায় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ৪ মার্চ সুরেশ রায় তাঁর দাদা শঙ্কর দাসকে (৩৫) প্রকাশ্যে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন। অভিযোগ ছিল, তাঁদের প্রেম ঘটিত সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দাদা শঙ্কর। এই ঘটনার পর সুরেশকে দোষী সাব্যস্ত করে জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। চলতি বছরের ২৯ মার্চ অ্যাডিশনাল থার্ড কোর্টের বিচারক বিপ্লব রায় তাঁকে ফাঁসির সাজা শোনান। এরপর থেকেই সুরেশ জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দী ছিলেন।
সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, আজ সকালে সুরেশের দেহ সেলের গরাদে একটি কাপড়ের ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে সুরেশের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ। সুরেশের আরেক দাদা মাধব রায় বলেন, “আমাদের আর্থিক সঙ্গতি ছিল না বলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারিনি। ভাই মানসিক অবসাদে ভুগছিল। কিন্তু জেলখানার ভিতরে এত নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত।”
পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।