দিনেও জ্বলছে রাস্তার পথবাতি, শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়রকে ফোন করলেন বাসিন্দা

দিনের বেলায় জ্বলন্ত পথবাতি নিয়ে এক প্রাতঃভ্রমণকারীর সরাসরি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। শনিবার সকালে ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজয় চক্রবর্তী মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার এলাকায় দিনের পর দিন সকাল আটটা পর্যন্ত পথবাতি জ্বলছে। এই অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় নিয়ে তিনি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন।
বিজয় চক্রবর্তীর অভিযোগ শোনার পর মেয়র কোনো রকম অজুহাত না দেখিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মেয়র পারিষদ কমল আগরওয়ালকে ফোন করেন এবং দ্রুত পুরকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে এই সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন। বিজয় তার অভিযোগে বলেন, “আলো নেভানোর জন্য তো লোক রয়েছে, তাহলে কেন সকাল আটটায় পথবাতি জ্বলবে? অহেতুক বাতি জ্বললে বিদ্যুতের বাড়তি বিল তো আমাদেরই দিতে হবে।”
মেয়র গৌতম দেব অভিযোগ পেয়ে খুশি হয়ে বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি তার নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন, তাতে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। আমি সচিবকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার শহরের পাঁচটি বরো এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুরকর্মীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে পুরকর্মীদের সময়মতো পথবাতি বন্ধ করার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হবে এবং নির্দেশ অমান্য করলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মেয়র পারিষদ কমল আগরওয়ালও বিজয়ের অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “আমিও ‘টক টু মেয়র’ শুনছিলাম। অভিযোগ যেহেতু এসেছে, তাহলে নিশ্চয়ই দিনের বেলায় আলো নেভানো হয়নি। সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।”
বর্তমানে শিলিগুড়িতে প্রায় ৩৩ হাজার আলো রয়েছে, যার মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি পথবাতি। তবে এর অর্ধেক পথবাতিতে এখনও স্ট্রিট ফেজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয় না। পথবাতিগুলো স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত, ফলে কর্মীদের হাতেই এর অন-অফ করার দায়িত্ব থাকে। এই পুরোনো ব্যবস্থা এবং মেরামতি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও সোমবারের বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।