বাংলার গর্ভে বিরল রত্ন! চিনের ‘গুপ্তধন’ পুরুলিয়ায়, ৬.৭ লক্ষ মেট্রিক টন বিরল মৃত্তিকা মৌলের খোঁজ, দাম জানেন?

বাংলার পুরুলিয়া জেলার কালাপাথর-রঘুডিহি ব্লকে বিপুল পরিমাণ বিরল মৃত্তিকা মৌল (Rare Earth Elements) বা ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট’-এর খোঁজ মিলেছে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI) জানিয়েছে, এখানে প্রায় ৬.৭ লক্ষ মেট্রিক টন এই বিরল খনিজের ভাণ্ডার রয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই বিপুল সম্পদ উত্তোলন নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে গ্যাসের ভাণ্ডার আবিষ্কার হলেও রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় লিজ না দেওয়ার কারণে উত্তোলন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। এবার পুরুলিয়াতেও একই অভিযোগ উঠেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিরল মৃত্তিকা মৌল?

বিশ্বে এই খনিজের প্রায় ৯০ শতাংশ ভাণ্ডার রয়েছে চিনের কাছে। আধুনিক বিশ্বে মোবাইল, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, যুদ্ধবিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন, বিমানের ইঞ্জিন এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের টারবাইনসহ সমস্ত অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিতে এই মৌল ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে থাকা ১৭টি বিশেষ মৌলের মধ্যে ১৫টিকে একসঙ্গে ‘ল্যান্থানাউস’ বলা হয়। একসময় এই মৌলের আবিষ্কারই রঙিন টেলিভিশন দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল। এর কৌশলগত গুরুত্ব এতটাই বেশি যে আমেরিকা যখন চিনের ওপর শুল্ক চাপানোর চেষ্টা করে, তখন চিন প্রায়শই এই মৌলের রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত

কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, কেরালা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, গুজরাটের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও এই বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে পুরুলিয়ার কালাপাথর-রঘুডিহি ব্লকে খনিজ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক জানিয়েছে যে, রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত নিলামের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেনি, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে আছে।

অতীতে অশোকনগরে গ্যাসের ভাণ্ডার পাওয়া গেলেও রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা থেকে কোনও সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এবারও প্রশ্ন উঠছে, পুরুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ভাণ্ডার পেয়েও কি বাংলা সেই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে? এই অমূল্য সম্পদ উত্তোলন করে রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হলেও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যেকার এই প্রশাসনিক জটিলতা সেই প্রক্রিয়াকে বাধা দিচ্ছে। এই টানাপোড়েনের জেরে বাংলা কি তার নিজের গর্ভে থাকা এই বিপুল সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।