কোটি টাকার সেতু কেন? খরচ নিয়ে চাপানউতোর দুই প্রধানের

মেখলিগঞ্জের সুতি ক্যানালের ওপর একটি অপ্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ নিয়ে তৃণমূলের দুই পুরপ্রধানের মধ্যে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই নতুন সেতু নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান কেশবচন্দ্র দাস। কিন্তু বর্তমান পুরপ্রধান প্রভাত পাটানি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, পুরসভার বার্ষিক বাজেটের প্রায় অর্ধেক টাকা খরচ করে এই ধরনের একটি অসম্পূর্ণ প্রকল্প সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

২০২৩ সালে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু এখনো এর অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না হওয়ায় প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এর ফলে, রাস্তা খোঁড়া থাকায় বর্ষার দিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের জল-কাদা পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বর্তমান পুরপ্রধান প্রভাত পাটানি বলেন, “আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব এলে আমি কখনোই অনুমোদন দিতাম না। কারণ, ওই জায়গার মাত্র ৫০ মিটার দূরে একটি স্থায়ী সেতু আগে থেকেই আছে। ওই টাকা দিয়ে সুতি ক্যানালের সংস্কার করলে মেখলিগঞ্জের মানুষ বেশি উপকৃত হতেন। সুতি ক্যানালই শহরের একমাত্র নিকাশির পথ। বর্ষায় এই ক্যানালই মেখলিগঞ্জের মানুষকে জলমগ্ন হওয়া থেকে বাঁচায়। তাই ক্যানালের ড্রেজিং, পাড় বাঁধানো এবং সৌন্দর্যায়নের কাজে ওই টাকা ব্যবহার করা উচিত ছিল।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এলাকার বাসিন্দা অভিষেক ঠাকুর বলেন, “এই ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। উল্টো, এটি এখন সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে উঠেছে। রাতে সেখানে মদের আসর বসে, কারণ ব্রিজে কোনো আলো নেই। মজার বিষয় হলো, এই ব্রিজের রাস্তা শুরু হয়েছে প্রাক্তন পুরপ্রধানের বাড়ির সামনে থেকে।” আরেক বাসিন্দা দ্বীপায়ন সরকার বলেন, “এই টাকা দিয়ে শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যেত, যেমন বিদ্যুতায়ন ও রাস্তাঘাট মেরামত।”

তবে প্রাক্তন পুরপ্রধান কেশবচন্দ্র দাস তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, “কিছু মানুষ অপ্রয়োজনীয় গল্প ফাঁদছেন। এই ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা আগামী দিনে মেখলিগঞ্জের মানুষ উপলব্ধি করতে পারবেন।” তিনি শিলিগুড়ির উদাহরণ টেনে বলেন, “মহানন্দা নদীর উপর দুটি ব্রিজ তৈরি হয়েছে এবং তার সুফল শিলিগুড়ির মানুষ পাচ্ছে। আগামী দিনেও এই সেতুটির সুফল পাবে পুরসভার বাসিন্দারা।” এই বিতর্কে রাজনৈতিক মহলে এখন নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।