বিশেষ: ভাইকে রাখি পরানোর জন্য মিলবে ৭ ঘণ্টা, জেনেনিন আজ শুভ মুহূর্ত কখন?

আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রাখিবন্ধন উৎসব। ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কের এই দিনে বোনেরা তাদের ভাইয়ের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করে হাতে রাখি বেঁধে দেন, আর ভাইয়েরা তাদের সুরক্ষার অঙ্গীকার করেন। এবছর রাখিবন্ধন উৎসবে কোনো অশুভ সময় বা ‘ভদ্র কাল’-এর প্রভাব নেই, ফলে সকাল থেকেই বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখি পরাতে পারছেন। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, এবারের রাখিবন্ধন উৎসব বেশ কিছু শুভ যোগে পালিত হচ্ছে, যা এই উৎসবকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
রাখিবন্ধন তিথি ও শুভ মুহূর্ত
শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। এ বছর পূর্ণিমা তিথি ৮ আগস্ট দুপুর ২টা ১২ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ৯ আগস্ট, শনিবার দুপুর ১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যমান। উদয় তিথির কারণে আজ, শনিবারই রাখিবন্ধন পালিত হচ্ছে।
এ বছরের রাখিবন্ধনে সৌভাগ্য যোগ, সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ এবং অভিজিৎ মুহূর্তের মতো কয়েকটি শুভ যোগ তৈরি হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই যোগগুলিতে করা শুভ কাজ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়।
শুভ মুহূর্ত: রাখি পরানোর শুভ সময় আজ সকাল ৫টা ৪৭ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে এবং চলবে দুপুর ১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে বোনেরা নির্বিঘ্নে তাদের ভাইদের হাতে রাখি পরাতে পারবেন।
সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ: সকাল ৫টা ৪৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত এই যোগ বিদ্যমান। এই সময়ে রাখি পরালে ভাই-বোনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
সৌভাগ্য যোগ: আজ সকাল থেকে শুরু হয়ে ১০ আগস্ট দুপুর ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এই যোগ থাকবে। এই যোগ জীবনে সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।
অভিজিৎ মুহূর্ত: দুপুর ১২টা ১৭ থেকে ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত এই মুহূর্তকে বিশেষ শুভ বলে ধরা হচ্ছে।
রাখি পরানোর রীতি
রাখি পরানোর জন্য সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরে ইষ্টদেবতার পূজা করার রীতি প্রচলিত আছে। এরপর একটি থালায় রাখি, চন্দন, চাল, দই, মিষ্টি এবং প্রদীপ সাজিয়ে নিতে হয়। ভাইকে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসিয়ে কপালে চন্দনের টিপ দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। এরপর হাতে রাখি পরিয়ে আরতি করে মিষ্টিমুখ করানো হয়।
রাখির তিনটি গিঁটের তাৎপর্য
রাখি পরানোর সময় তিনটি গিঁট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রথম গিঁটটি ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য, দ্বিতীয়টি ভাইয়ের মাধ্যমে সুরক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা এবং তৃতীয়টি ভাই-বোনের সম্পর্ক চিরকাল অটুট রাখার জন্য।
এবারের রাখিবন্ধন উৎসবে ভদ্র কাল না থাকায় এবং বেশ কয়েকটি শুভ যোগের উপস্থিতির কারণে এটি একটি অত্যন্ত শুভ এবং আনন্দময় দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।