বন্ধুবিয়োগের এক বছর, কেমন আছেন আরজি কর নির্যাতিতার ‘বিশেষ বন্ধু’? ?

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে যখন সুবিচারের দাবিতে শহর উত্তাল, তখন এই ঘটনার সবচেয়ে বড় বলি হয়েছেন তাঁর ‘বিশেষ বন্ধু’। যে লাল-নীল সংসারের স্বপ্ন তাঁরা একসঙ্গে দেখেছিলেন, তা নিমেষে ভেঙে গিয়েছিল এক বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই নারকীয় ঘটনায়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি যেন আজও সেই দুঃস্বপ্নের রাত থেকে বেরোতে পারেননি।

অন্তরালে ‘বিশেষ বন্ধু’, নীরব যন্ত্রণায় দিন কাটছে
হত্যাকাণ্ডের শিকার তরুণীর বাবা-মা যখন শ্যামবাজারের ‘অভয়া রাত’ সমাবেশে মেয়ের সুবিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন তাঁদের কথায় উঠে আসে ওই তরুণের করুণ পরিস্থিতি। মায়ের কণ্ঠ থেকে শোনা যায়, “কী দোষ ছিল ওই ছেলেটার? ওর জীবনটাও আমাদের মতোই হয়ে গেছে।” তিনি জানান, গত বছরের ৯ আগস্ট একটি ফোন কল তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। সেই ঝড়ের পরে এখন কেবল প্রিয়জনকে হারানোর গভীর বেদনা অবশিষ্ট।

পেশায় তিনিও একজন চিকিৎসক। বন্ধুর নির্মম পরিণতি তাঁকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। তরুণীর মা বলেন, “ছেলেটা বলে, বাড়ি থেকে বেরোই, সারাদিন রোগী দেখি, আবার বাড়ি ফিরে আসি। কিছু ভালো লাগে না। রোগী দেখতেই সব ভুলতে চাই।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সাইকিয়াট্রিতে গোল্ড মেডেল পেয়েও সেই আনন্দ কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেননি। তিন দিন বাড়ির বাইরে ছিলেন, কাউকে সুখবরটি জানাননি।

বিচারহীনতার যন্ত্রণা ও গভীর অবসাদ
গত কয়েক মাস ধরে তরুণীর এই বন্ধু গভীর অবসাদে ভুগছেন বলে জানা গেছে। তিনি সবকিছু ভুলে থাকার জন্য কেবল কাজের মধ্যেই শান্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন। তাঁর জীবন এখন এক গতানুগতিক ছকে বাঁধা। কোনও কিছুতেই তাঁর মন বসছে না। তরুণীর মায়ের আক্ষেপ, “এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। এত অন্যায়ের মাঝে যদি দোষীর শাস্তি হতো, তাহলে হয়তো মানসিক ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ পড়ত।”

এক বছর পরও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার এবং প্রিয়জন। আরজি করের সেই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং আরও অনেকের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।