“আজও প্রতি রাতে মেয়ের কান্না শুনতে পাই”- ন্যায়বিচার চাইছেন নির্যাতিতার মা-বাবা

আরজি কর হাসপাতালের এক মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্তিতে আবারও উত্তপ্ত শহরের রাজপথ। গত বছর এই দিনে এক তরুণী ইন্টার্নের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। শুক্রবার রাতে জুনিয়র ডাক্তাররা কলেজ স্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মশাল মিছিল বের করেন এবং সেখানে ‘অভয়া রাত’ নামে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যরাতে এই সমাবেশে যোগ দেন নিহত তরুণীর শোকাহত বাবা-মা। তাঁদের একটাই আক্ষেপ, এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁরা মেয়ের জন্য সুবিচার পাননি।
মেয়ের শোকে কাতর বাবা-মা, তবুও লড়াইয়ে অটল
কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত তরুণীর মা বলেন, “আজও প্রতি রাতে আমি আমার মেয়ের আর্তনাদ শুনতে পাই। অনেকেই ভাবছেন, আমরা সুবিচার পেয়েছি। কিন্তু এটা সত্যি নয়। কিছু মানুষ প্রচার করছেন যে আমরা রাজনীতিতে আসতে চাই। কিন্তু আমাদের এমন কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমরা শুধু আমাদের মেয়ের জন্য বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “কেন আমার মেয়ের সহপাঠীরা আন্দোলনে নেই? ওই রাতে হাসপাতালে আর কেউ কি কিছু জানতেন না? কেন সেই রাতের ডাক্তাররা আমাদের সঙ্গে কথা বললেন না? আমাদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে চাইলেন না কেন? এখনও আরজি কর হাসপাতালের মধ্যে আসল অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সন্দীপ ঘোষ কি সত্যিই কিছু জানতেন না? কলকাতা পুলিশ বা সিবিআই কেউই সঠিক তদন্ত করেনি। আমার মেয়ে পৃথিবীতে না থাকলেও, আমরা তার নাম কখনও ভুলতে দেব না।”
বাবার চোখেও একই আক্ষেপ
নিহত তরুণীর বাবা বলেন, “গত বছর ৯ আগস্ট আমাদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। আমার মেয়ে আরজি করের ছাত্রী ছিল, কিন্তু তার উপর যে অত্যাচার হয়েছে, তা আমরা কোনও দিন ভুলতে পারব না। আমরা এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা পাইনি। এক বছর হয়ে গেলেও সিবিআই আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।” তিনি জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলেমেয়ের মতো জুনিয়র ডাক্তাররা আমাদের সঙ্গে আছে। তবে তাদের মধ্যেও কিছু সুযোগসন্ধানী আছে, যাদের চিনতে হবে। যারা আমার মেয়ের জন্য লড়াই করছে, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাব না, কারণ আমার বিশ্বাস তারা এই লড়াইয়ে আমাদের পাশে থাকবে।”
সাজাপ্রাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের আজীবন কারাদণ্ড হলেও পরিবারের দাবি, এখনও আসল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। শোক এবং বিচারহীনতার যন্ত্রণায় ভুগছেন বাবা-মা, তবুও তাঁরা তাঁদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।