কালীঘাট, নবান্ন অভিযানে ‘না’ পুলিশের, দেওয়া হল বিক্ষোভ-আন্দোলনের বিকল্প জায়গা

আগামীকাল, শনিবার আরজি কর কাণ্ডের এক বছর পূর্তি। এই উপলক্ষ্যে আরজি করের নির্যাতিতার পরিবার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থিত নবান্ন বা কালীঘাট অভিযানের অনুমতি দিল না রাজ্য প্রশাসন। কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ উভয়েই এই দুই কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি নতুন সংবাদ তৈরি করেছে। একই সাথে নিয়ম অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

বিকল্প স্থান প্রস্তাব:
বিক্ষোভকারীদের জন্য প্রশাসন দুটি বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথমটি হল সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ড এবং দ্বিতীয়টি রানি রাসমণি চত্বর। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুটি স্থানে শান্তিপূর্ণ ও আইনি উপায়ে প্রতিবাদ করা যাবে।

পুলিশের অবস্থান:
পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নবান্ন রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর হওয়ায় সেখানে সবসময় উচ্চ-স্তরের নিরাপত্তা বজায় থাকে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) সবসময় কার্যকর থাকায় ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের মিছিল বা জমায়েত নিষিদ্ধ।

অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি?:
নবান্ন অভিযানের ডাক দিলেও আয়োজকরা এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাননি। কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আদালতের রায়:
পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের একটি মামলার রায়ে বলা হয়েছে যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার, তবে হিংসা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা যাবে না। প্রয়োজনে রাজ্য প্রশাসন বিধিনিষেধ জারি করতে পারে।

সতর্কবার্তা:
হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য আবেদন করতে বলেছেন। একই সাথে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা জানিয়েছেন, কালীঘাট অভিযানের অনুমতিও দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হবে, যাতে আইন ভাঙলে সহজেই শনাক্ত করা যায়।

পুরোনো ঘটনা:
গত বছরও ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’-এর ডাকে নবান্ন অভিযান হয়েছিল, যেখানে বিজেপি সমর্থন জানিয়েছিল। এই বছরেও একই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, যা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করে দেওয়া হলো। এই পরিস্থিতিতে নবান্ন ও কালীঘাট অভিযানের বদলে বিক্ষোভকারীরা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।