প্রিয়াঙ্কার পাল্টা প্রশ্ন, তদন্ত না করে হলফনামা চাইছে কেন নির্বাচন কমিশন?

ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তোলার পর, কমিশন তাকে হলফনামায় স্বাক্ষর করে প্রমাণ জমা দিতে বলেছে। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “তদন্ত না করে নির্বাচন কমিশন কেন হলফনামা চাইছে?”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আমরা যা বলছি, সব জনসমক্ষে বলছি এবং প্রমাণও দেখাচ্ছি। আমরা সংসদে শপথ নিয়েছি। এর চেয়ে বড় আর কোনও শপথ হতে পারে না।” তিনি বলেন, কমিশনের উচিত প্রথমে অভিযোগের তদন্ত করা, তারপর হলফনামা চাওয়া। তিনি আরও বলেন, “ওরা যে আইনের আওতায় হলফনামা চাইছে, তাতে ৩০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। জবাব না দিলেও কিছুই হবে না। তাহলে হলফনামা চাইছে কেন?”
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেন, কমিশন ইলেকট্রনিক্স ভোটার তালিকা দিচ্ছে না এবং তদন্তও করছে না। তিনি বলেন, “একটি বিধানসভা থেকে এক লক্ষেরও বেশি ভুয়ো ভোটারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যাঁরা নির্বাচনে লড়াই করেন, তাঁরাই বুঝতে পারবেন এক লক্ষ ভুয়ো ভোটার থাকার অর্থ কী!”
রাহুল গান্ধী গত বৃহস্পতিবার একটি অনলাইন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন যে কীভাবে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্রে এবং মহাদেবপুরা বিধানসভায় ভোট কারচুপি হয়েছে। তার অভিযোগ, বিজেপি এই সামান্য ব্যবধানেই ২৫টি লোকসভা আসনে জয়ী হয়েছে এবং এর ফলেই নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, রাহুল গান্ধীকে নির্বাচনের নিয়ম মেনেই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। তাদের মতে, যদি রাহুল তার অভিযোগে বিশ্বাস করেন, তাহলে হলফনামায় স্বাক্ষর করতে তার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে তার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হবে।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে বিজেপিও কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, “কংগ্রেস কোনো যুক্তি ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে শিক্ষা দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “কমিশন রাহুলকে কার্যালয়ে এসে সব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি। তার কথার কোনো গুরুত্ব নেই।”
সংসদে ‘এসআইআর’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “সরকারের সংসদে এসআইআর নিয়ে আলোচনা করার ক্ষমতা নেই। এই সরকার একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আলোচনায় বসতে তাদের কী সমস্যা?”
সব মিলিয়ে, এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন, কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে ভোট কারচুপির অভিযোগ এবং হলফনামা কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।