“সময় লাগবে, কিন্তু ধরবই!” বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ভোট চুরির অভিযোগ আনলেন রাহুল

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন একটি “বড় অপরাধ” লুকিয়ে রেখেছে। তাঁর মতে, কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটার তালিকা ও বুথের ভিডিও প্রকাশ না করে বিজেপির ভোট কারচুপি আড়াল করছে।

৬ মাসের তদন্তে ‘ভোট চুরির’ প্রমাণ
রাহুল গান্ধী বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’-এর সাংবিধানিক নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসের নিজস্ব ৬ মাসের তদন্তে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্রের মহাদেবপুরা বিধানসভা এলাকায় “১০০ শতাংশ ভোট কারচুপির” প্রমাণ মিলেছে। তাঁর অভিযোগ, কমপক্ষে এক লক্ষ ভোট চুরি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই কারচুপির পেছনে রয়েছে:

একই ব্যক্তির নাম একাধিক ভোটার তালিকায় থাকা

ভুয়ো বা অপ্রামাণিক ঠিকানা ব্যবহার

একটি ঠিকানায় শতাধিক ভোটারের নাম নথিভুক্ত করা

ফার্স্ট-টাইম ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ফর্ম-৬-এর অপব্যবহার

অস্পষ্ট ছবি বা ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ভোটের পর ভিডিও ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক ভোটার তালিকা চেয়েছিল কংগ্রেস, কিন্তু কমিশন তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে আইন বদলে ৪৫ দিনের মধ্যে ভোটের ভিডিও মুছে ফেলার বিধান আনা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থানসহ একাধিক রাজ্যের ভোটার তালিকার ওয়েবসাইট কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে মানুষ বুঝতে না পারে কীভাবে তালিকা বদলানো হয়েছে। রাহুলের কথায়, “নির্বাচন কমিশন আর বিজেপি মিলে কর্নাটকের লোকসভা ভোট চুরি করেছে। এটা কর্নাটকবাসীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ।”

তিনি রাজ্য সরকারকে এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনারা লুকিয়ে থাকতে পারবেন না, আপনাদের জবাব দিতে হবেই।”