আসছে মনসা পুজো! জেনেনিন পুজোর দিনক্ষণ ও আরাধনার নিয়ম

হিন্দু ধর্মানুসারে মা মনসা হলেন সর্পদেবী। তাঁকে সন্তান কামনার দেবী এবং রোগ মুক্তির প্রতীক হিসেবেও পূজা করা হয়। তিনি কাশ্যপ মুনি ও কদ্রুর কন্যা এবং সর্পরাজের বোন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মনসা দেবী প্রাক-আর্য যুগের দেবী। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেশি হয় বলে এই সময় ঘরে ঘরে তাঁর পূজা করা হয়।
মনসা পূজার ইতিহাস
বাংলার লোককথা অনুযায়ী, একসময় মা মনসা শিবের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যে, তিনি যেন সর্বত্র পূজিত হন। শিব তাঁকে বলেছিলেন, যদি চাঁদ সওদাগর তাঁর পূজা করেন, তবেই তাঁর ইচ্ছা পূরণ হবে। কিন্তু চাঁদ সওদাগর মনসার পূজা করতে অস্বীকার করায় তাঁর সব সন্তানকে সাপে কাটে এবং তাঁর ব্যবসা ডুবে যায়। পরে চাঁদ সওদাগরের স্ত্রী স্বর্গ থেকে এই দুর্ভাগ্যের কারণ জেনে ফিরে আসেন এবং শ্বশুরকে মনসা পূজার জন্য রাজি করান। এরপর চাঁদ সওদাগর মনসা দেবীর পূজা শুরু করেন এবং নিজের পুরনো ঐশ্বর্য ফিরে পান। এই ঘটনা থেকেই মনসা পূজার প্রচলন শুরু হয়।
২০২৫ সালের মনসা পূজার দিনক্ষণ
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর মনসা পূজা মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে পালিত হবে:
২৯শে জুলাই, ২০২৫: নাগ পঞ্চমীর দিন, যা বাংলা ১২ শ্রাবণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
১৩ই আগস্ট, ২০২৫: এই দিনটি হল ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
এই দুটি দিনেই বিভিন্ন জায়গায় মনসা পূজা, নাগপঞ্চমী এবং অষ্টনাগ পূজা উপলক্ষে আরাধনা করা হবে। কিছু কিছু অঞ্চলে শ্রাবণ এবং আষাঢ় মাসের প্রতিটি পঞ্চমী তিথিতে এই পূজা করার রীতি রয়েছে।
কীভাবে আরাধনা করা হয়?
পূজার দিনগুলিতে নদীর মাটি দিয়ে বিশেষ কায়দায় দেবীর মূর্তি তৈরি করা হয়। ভক্তরা একসঙ্গে বসে মনসা দেবীর আরাধনা করেন এবং দুধ-কলা দিয়ে নৈবেদ্য সাজান। কিছু জায়গায় জীবন্ত সাপের পূজা করার রীতিও প্রচলিত আছে। অনেক ভক্ত আবার শরীরকে কষ্ট দিয়ে, যেমন সূচ ফুটিয়ে, ব্রত পালন করেন। যাদের সন্তান নেই, তারাও এই পূজায় অংশ নিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।