বিশেষ: রুশ তেল বন্ধ করলে বিকল্প কোন পথ খোলা রয়েছে ভারতের, জেনেনিন বিস্তারিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-বিরোধী শুল্ক আরোপের পর রুশ তেল কেনা নিয়ে চরম কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ভারত। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রুশ তেল কেনার জন্য ভারতকে এখন ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে, যা তিন সপ্তাহ পর বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ১: বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা
যদি ট্রাম্পের বর্ধিত শুল্ক এড়াতে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করে, তবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহের জন্য দ্রুত নতুন উৎস খুঁজে বের করতে হবে। এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, কারণ রাশিয়া থেকে ভারত উচ্চমানের ‘উরালস্ ক্রুড’ তেল তুলনামূলক অনেক কম দামে পাচ্ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুধু এই সস্তা তেল কিনে ভারত ৩৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছিল। বর্তমানে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ ভারতকে এত কম দামে তেল সরবরাহ করার মতো অবস্থায় নেই।
চ্যালেঞ্জ ২: অর্থনৈতিক ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করলে ভারতের রাজকোষে বছরে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমেরিকা থেকে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭.৬১ লক্ষ কোটি টাকা। এই বিশাল রপ্তানি বাজারের কথা মাথায় রেখে ভারত কি শুধুমাত্র টাকার অঙ্কের বিচারে এত বড় ঝুঁকি নিতে পারে?
সরকারের পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক ভারসাম্য:
এই চাপের মুখেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আপাতত মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনকে শান্ত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনকারী সংস্থাগুলি সাময়িকভাবে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে যে, তারা কেন্দ্রের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্পট মার্কেটে রুশ তেল কিনবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে রুশ তেলের কোনো সহজ বিকল্প নেই। যদিও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প হতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে দামের মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ২০২২ সালের আগে ভারত তার মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশ তেল উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করত, যেখানে রাশিয়ার শেয়ার ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে রাশিয়া প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ার নিয়ে ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ।
কেপলারের মতো একাধিক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের বেসরকারি তেল সংস্থাগুলো কৌশলগত কারণেই একক রুশ নির্ভরতা কমাতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা পশ্চিম এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা আমেরিকার মতো দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে। তবে এর জন্য রিফাইনারি কনফিগারেশন পরিবর্তনসহ একাধিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। সুতরাং, আপাতত ভারতকে দ্বিমুখী পথে হেঁটে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।