“নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা, যা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক”- রাহুলের ভোটচুরির অভিযোগের পালটা BJPর

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর ‘ভোটচুরি’ এবং বিজেপি-কমিশনের যোগসাজশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল বিজেপি। গেরুয়া শিবির রাহুলের সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো বলে আখ্যা দিয়েছে। বিজেপির দাবি, রাহুল গান্ধী কেবল নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির আঁতাঁতের মাধ্যমে বিরাট ভোট জালিয়াতি হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৫টি আসনে ভোট চুরি করেছেন, যেখানে হারজিতের ব্যবধান ৩৩ হাজারের কম ছিল।

রাহুল কর্নাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক ত্রুটি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ওই একটি কেন্দ্রেই ১ লক্ষের বেশি ভোট চুরি হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার ৪০,০০৯, ডুপ্লিকেট ভোটার ১১,৯৬৫, একই ঠিকানায় একাধিক ভোটার ১০,৪৫২, ভুল ছবি রয়েছে ৪,১৩২ এবং ফর্ম ৬-এর অপব্যবহার করেছেন ৩৩,৬৯২ জন ভোটার।

তবে রাহুলের এই অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “রাহুল গান্ধী এবং তার দল যে গবেষণা করেছে, তা পুরোটাই ভিত্তিহীন। এর কোনো অর্থ নেই। পুরোটাই নির্বাচন কমিশনকে বদনাম করার চেষ্টা।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওরা যখনই হারে, তখনই কমিশনকে দোষ দেয়। অথচ এই কংগ্রেসই যখন মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় লোকসভায় জেতে, তখন কমিশনকে বাহবা দিত। বিধানসভায় হারতেই কমিশনের দোষ। আসলে সবটাই করা হচ্ছে কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে।”

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও নির্বাচন কমিশনের সুরেই রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী যদি ভুয়ো ভোটারের তালিকা দিয়ে থাকেন, তবে তা হলফনামা আকারে কমিশনে জমা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, “যদি তিনি তা না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি মিথ্যা কথা বলে দেশকে বিভ্রান্ত করছেন এবং মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বপন করছেন। এই ধরনের আচরণ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।”