“মামলায় সাজার হার তলানিতে?”-ED-কে আইন মেনে চলার কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আবারও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কার্যকারিতা এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত বলেছে, ইডি পেশাদার অপরাধীর (ক্রুক) মতো আচরণ করতে পারে না এবং তাদের ভাবমূর্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রিভেনশন অফ দ্য মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যার তুলনায় সাজা ঘোষণার হার অত্যন্ত কম হওয়ায় আদালত এই মন্তব্য করে।
বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া, বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এন নটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ জানায়, গত কয়েক বছরে পিএমএলএ-এর অধীনে প্রায় ৫ হাজার মামলা দায়ের করা হলেও, সাজা ঘোষণা হয়েছে মাত্র ১০টি মামলায়। এটি মোট মামলার মাত্র ০.১ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেখে বেঞ্চ মন্তব্য করে, “ইডিকে আইনের চারটি দিক মেনে চলতে হবে। আমরা এখন ইডির ভাবমূর্তি নিয়েও চিন্তিত।”
‘বিজয় মদনলাল চৌধুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার’ একটি রিভিউ পিটিশনের শুনানির সময় এই বিতর্ক শুরু হয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু ইডির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী এবং ধনী হওয়ায় তারা মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিক আবেদন দায়ের করে এবং শুনানির দিন হাজির হয় না। এর ফলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে এবং শাস্তির হার কম।
তার এই যুক্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনারা অভিযুক্তদের দোষী প্রমাণ করতে পারছেন না, অথচ তাদের বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখছেন।” তিনি আরও বলেন, “আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে, যা ইডিকে বুঝতে হবে।” গত ১০ বছরে পিএমএলএ-এর অধীনে দায়ের হওয়া ৫ হাজার মামলার মধ্যে মাত্র ৪০টি মামলায় সাজা ঘোষণা হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করে।
এই ঘটনায় আবারও ইডি-র নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইডি শাসক দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য ইডির বিশ্বাসযোগ্যতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।