বিশেষ: পুজোর আর মাত্র দেড় মাস বাকি, জেনেনিন মহালয়া কবে ও এর গুরুত্ব কী?

আর মাত্র দেড় মাস বাকি, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার। আশ্বিনের শারদ প্রাতে আলোকবেণু বাজতে আর বেশি দেরি নেই। পুজোর প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে, তবে দুর্গাপূজার প্রকৃত সূচনা হয় মহালয়ার দিন। এই দিনে পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে মাতৃপক্ষের সূচনা হয় এবং দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের ক্ষণগণনা শুরু হয়।

মহালয়ার গুরুত্ব ও ইতিহাস:
মহালয়া শব্দটি এসেছে ‘মহান আলয়’ থেকে, যা দেবী দুর্গাকে নির্দেশ করে। পুরাণ মতে, ব্রহ্মার বরে অমর হয়ে ওঠা মহিষাসুরকে বধ করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর তাদের সম্মিলিত শক্তি দিয়ে এক নারীশক্তির সৃষ্টি করেন। তিনিই মহামায়ারূপী দেবী দুর্গা। দেবতারা তাদের অস্ত্র দিয়ে দুর্গাকে সজ্জিত করেন এবং দেবী সেই অস্ত্রেই মহিষাসুরকে বধ করেন। তাই মহালয়া শুধু পিতৃপুরুষের তর্পণ নয়, এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়েরও প্রতীক।

পিতৃতর্পণ ও চক্ষুদানের রীতি:
মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করার রীতি প্রচলিত আছে। এই দিনে নদীতীরে কিংবা ঘাটে বহু মানুষ তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকেন। একই সঙ্গে, এই দিনেই দেবীর প্রতিমায় চক্ষুদান করা হয়, যা দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আগে রাজবাড়ী ও জমিদার বাড়িতে সপ্তমীর দিনে চক্ষুদান হলেও, মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় এই দিনেই প্রতিমার চক্ষু আঁকার প্রথা শুরু হয়। এখন বারোয়ারি পুজোর কারণে অনেক শিল্পী কাজের সুবিধার জন্য মহালয়ার আগেও চক্ষু এঁকে ফেলেন, তবে মহালয়ায় চক্ষুদানের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম।

মহালয়া ২০২৫-এর দিনক্ষণ:
এই বছর মহালয়া পড়েছে ২১ অক্টোবর (৪ আশ্বিন), রবিবার। ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হবে এবং তা চলবে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে, যা ১৫ দিন পর মহালয়ার দিন শেষ হবে।

মহালয়ার দিন ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যা বাঙালির প্রতিটি ঘরে পুজোর আগমন বার্তা নিয়ে আসে। মহালয়া শেষ হওয়ার পর থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়ে যায় এবং বাঙালির উৎসবের মেজাজ তুঙ্গে ওঠে।