সরকারি চাকরির প্রস্তুতির দিশা দেখাচ্ছে আসানসোলের এই সংস্থা, বিনামূল্যে মিলবে সিযোগ

স্নাতক পড়াশোনা শেষ করে যখন চাকরির সন্ধানে দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন মেধাবী তরুণ-তরুণীরা, তখন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল জেলা লাইব্রেরি তাঁদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে যারা ভালো বই কিনে পড়তে পারেন না অথবা কোন পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় তা বুঝে উঠতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই লাইব্রেরি এক দারুণ প্ল্যাটফর্ম। শুধু পশ্চিম বর্ধমান নয়, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এমনকি ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকেও অনেক ছাত্রছাত্রী এখানে এসে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কীভাবে সাহায্য করছে লাইব্রেরি?
আসানসোল জেলা গ্রন্থাগারে চাকরির প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন ধরনের বইয়ের বিপুল সম্ভার রয়েছে। এখানে WBCS, রেল, ব্যাঙ্ক এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বই পাওয়া যায়। লাইব্রেরীর যুগ্ম সম্পাদক দীপক কান্ত তলাপাত্র জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শুধু জেলার নয়, ভিন রাজ্যেরও বহু শিক্ষার্থী এখানে ক্যারিয়ার গাইডেন্স বই নিয়ে পড়াশোনা করতে আসেন।
সাফল্যের হার:
লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর এখান থেকে প্রস্তুতি নিয়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে সাফল্য অর্জন করছেন। এটি লাইব্রেরীর একটি বড় সাফল্য। বর্তমানে এখানে ২২৮৬ জন নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক, ২১৭ জন প্রবীণ নাগরিক এবং ১৪৬ জন শিশু পাঠক রয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন পাঠক নতুন বই নিয়ে যান।
লাইব্রেরি ব্যবহারের নিয়ম:
আসানসোল কোর্ট মোড়ে অবস্থিত এই লাইব্রেরিটি সরকারি ছুটির দিন এবং মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার বাদে, সোম থেকে শনিবার পর্যন্ত খোলা থাকে। লাইব্রেরিতে পড়ার জন্য প্রথমে একটি সদস্যপদ কার্ড তৈরি করতে হয়। এর জন্য পরিচয়পত্র এবং ছবি জমা দিতে হয়। একবার সদস্যপদ পেলে নিয়মিত লাইব্রেরিতে বসে বিনামূল্যে যত খুশি বই পড়া যায়। তবে, চাকরির প্রস্তুতির বইগুলো বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।
আসানসোলের এই লাইব্রেরীটি আর্থিক দুর্বলতার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যা তাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।