কানওয়ার যাত্রা করে বেহাল অবস্থা বিজেপি সাংসদের, ১১০ কিমি হাঁটার পর ফিরলেন হুইলচেয়ারে

পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নিয়ে বেহাল অবস্থা হলো বিজেপি সাংসদ ও ভোজপুরী তারকা মনোজ তিওয়ারির। সুলতানগঞ্জ থেকে গঙ্গাজল কাঁধে নিয়ে বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালতে খালি পায়ে ১১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন তিনি। মাঝপথেই পায়ে বড় বড় ফোস্কা পড়ে যায়, যার ফলে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে বাকি পথ তাকে হুইলচেয়ারে বসে শেষ করতে হয়। তার এই করুণ অবস্থার ছবি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ভোজপুরী সিনেমার জনপ্রিয় শিল্পী মনোজ তিওয়ারির ঈশ্বরভক্তি বহু পুরোনো। রাজনীতির জগতে পা রাখার পর গত প্রায় ৩০ বছরে তিনি কোনো কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেননি। সম্প্রতি অতীতের সেই দুঃসাহস ও ভক্তিকে সঙ্গী করে তিনি ফের এই পুণ্যযাত্রায় বেরিয়েছিলেন। যাত্রা শুরুর দিকে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। বিশাল ভক্ত দলের সঙ্গে ‘ব্যোম ভোলে’ স্লোগান দিতে দিতে এবং ভজন গাইতে গাইতে তিনি শিবের ধামের দিকে রওনা দেন।
তবে, ১১০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ খালি পায়ে হাঁটার কারণে সমস্যা শুরু হয়। তার পায়ে ফোস্কা পড়ে তা ফুলে ওঠে। গত ৩ আগস্ট দিল্লি ফিরে এসে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ তিনি তার সফরের অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “জয় ভোলেনাথ, জয় বৈদ্যনাথ। অর্ধরাত্রিতে দিল্লি পৌঁছেছি। ১১০ কিলোমিটারের কানওয়ার যাত্রা। খালি পায়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলাম। যে শক্তি আমাকে চালিত করেছে, লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে, সে মহাদেব ছাড়া আর কেউ নয়।”
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, মনোজ তিওয়ারি হুইলচেয়ারে বসে রয়েছেন এবং তার পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা। এর পাশে তিনি সফরের শুরুর সময়ের স্বাভাবিক ছবিও শেয়ার করেছেন।
তিনি আরও লেখেন, “মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাজি ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছেন। পায়ের ছাল উঠে গিয়েছে আমার। এই সফরের পর হৃদয়ে দৈব অনুভূতি তৈরি হয়েছে।”
এই ঘটনা একদিকে যেমন তার ভক্তির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়িয়েছে, তেমনই এই ধরনের কঠিন পুণ্যযাত্রার শারীরিক ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এসেছে।