ফার্মাসিস্ট হতে গেলে কী যোগ্যতার প্রয়োজন? কী ভাবেই বা এগোবেন? জানুন সমস্ত তথ্য

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেন ফার্মাসিস্ট। চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধ সংক্রান্ত পরামর্শ সহজ ভাষায় রোগীকে বোঝানো এবং ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা তাঁদের প্রধান কাজ। প্রত্যেক ওষুধের দোকানে একজন ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক এবং তাঁদের নামেই দোকানের লাইসেন্স হয়। আপনি যদি এই পেশায় আসতে চান, তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কোর্স এবং কর্মজীবনের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
যোগ্যতা এবং কোর্স
ফার্মাসিস্ট হওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে উচ্চমাধ্যমিক (১০+২) পাস করা জরুরি। বিজ্ঞান বিভাগে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি এবং অঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো নম্বর ভবিষ্যতে কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। ফার্মাসিস্ট হওয়ার জন্য দুটি প্রধান কোর্স রয়েছে:
১. ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি (D.Pharm):
সময়কাল: ২ বছর।
যোগ্যতা: উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থাকা প্রয়োজন।
ভর্তি প্রক্রিয়া: পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত JEXPO বা কলেজভিত্তিক মেধা তালিকার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়।
পাঠ্যক্রম: এই কোর্সে ফার্মাকোলজি, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, ওষুধ তৈরি এবং সংরক্ষণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কর্মজীবন: কোর্স শেষ করার পর রাজ্য ফার্মাসি কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে সরকারি বা বেসরকারি ফার্মেসিতে চাকরি করা যায়। নিজের নামে লাইসেন্স নিয়ে ওষুধের দোকানও খোলা যেতে পারে।
২. ব্যাচেলর অফ ফার্মেসি (B.Pharm):
সময়কাল: ৪ বছরের স্নাতক কোর্স।
যোগ্যতা: উচ্চমাধ্যমিকে ৫০% নম্বর সহ ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, এবং বায়োলজি বা অঙ্কে ভালো নম্বর থাকতে হবে।
ভর্তি প্রক্রিয়া: পশ্চিমবঙ্গে WBJEE (West Bengal Joint Entrance Exam) পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হয়।
পাঠ্যক্রম: এতে ওষুধের উৎপাদন, ক্লিনিকাল ও হসপিটাল ফার্মেসি, ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয়।
কর্মজীবন: এই কোর্স সম্পন্ন করার পর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, গবেষণা সংস্থা এবং রিটেল চেইনে কাজের সুযোগ মেলে।
উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ
B.Pharm-এর পর M.Pharm, MBA in Pharmaceutical Management বা Clinical Research নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায়। ফার্মাসিস্ট হিসেবে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট পদে চাকরির সুযোগ থাকে। এছাড়া ওষুধ কোম্পানিতে মার্কেটিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং উৎপাদন বিভাগে কাজ করারও সুযোগ রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (B.Pharm)
বিসিডিএ কলেজ অব ফার্মেসি অ্যান্ড টেকনোলজি (D.Pharm, B.Pharm)
এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস (B.Pharm)
ইনস্টিটিউট অব ফার্মেসি, জলপাইগুড়ি (D.Pharm)
কল্যাণী সরকারি ফার্মাসি কলেজ (B.Pharm)
সুতরাং, যদি ওষুধ নিয়ে আগ্রহ থাকে, তাহলে ফার্মাসিস্টের পেশা একটি সম্মানজনক এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হতে পারে।