নিহতের ফোনই ২ বছর পরে ধরিয়ে দিল খুনিকে, জেনেনিন ধরা পড়লো আসামি?

মদ্যপ এবং মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে এক মহিলা ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বামীকে খুন করিয়েছিলেন। খুনের প্রায় দু’বছর পর একটি ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ ওই মহিলা ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি জেরার মুখে তারা দু’জনেই খুনের কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় দিল্লির আলিপুরে। ৩৪ বছর বয়সী সনিয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রীতম প্রকাশকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। সনিয়ার অভিযোগ, প্রীতম মাদকাসক্ত এবং অপরাধে জড়িত ছিলেন। বহু চেষ্টা করেও তাকে মূলস্রোতে ফেরানো যায়নি। ২০২৩ সালে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক ক্যাবচালক রোহিতের সঙ্গে তার আলাপ হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রোহিতের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার জন্য সনিয়া প্রীতমকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
প্রীতমের সঙ্গে ঝগড়ার পর সনিয়া হরিয়ানার সোনিপতে তার বোনের বাড়িতে চলে যান। সেখানেই তিনি তার বোনের দেওর বিজয়কে ৫০,০০০ টাকার বিনিময়ে স্বামীকে খুনের সুপারি দেন। প্রীতম তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে সোনিপতে গেলে, সনিয়া তাকে সেদিন রাতে সেখানেই থেকে যেতে বলেন। সেই রাতেই বিজয় প্রীতমকে খুন করে দেহটি পাশের খালে ফেলে দেয়।
কয়েক দিন পর দেহ উদ্ধার হলেও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এরপর সন্দেহ এড়াতে সনিয়া দিল্লিতে প্রীতমের নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, প্রীতমের শেষ ফোনের লোকেশন ছিল সোনিপতে। সেই সূত্র ধরে পুলিশ রোহিতকে আটক করে। রোহিতের কাছে প্রীতমের মোবাইলটি পাওয়া যায়, যা নষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছিল সনিয়া। এই ফোনের সূত্র ধরেই পুলিশ সনিয়া ও রোহিতকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে খুনের মূল অভিযুক্ত বিজয় এখনও পলাতক।