বামুন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার চেষ্টা!-পরের বছর মহাকাশে মানুষ পাঠাবে পাকিস্তান?

পাকিস্তান ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে একজন মহাকাশচারী পাঠাতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক যাত্রার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও এর পেছনে রয়েছে চীনের ওপর পাকিস্তানের গভীর নির্ভরতার চিত্র। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা SUPARCO (স্পেস অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন), যা ভারতের ISRO-এর চেয়েও পুরোনো, বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
১৯৬২ সালে প্রথম রকেট ‘রোভার-১’ উৎক্ষেপণের পর এবং ১৯৯০ সালে চীনের সহায়তায় প্রথম স্যাটেলাইট ‘বদর-১’ পাঠানোর পর পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচি অনেকটাই থমকে যায়। এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বাজেট স্বল্পতা, যেখানে SUPARCO-এর জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩৬ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে থাকায় বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনার অভাব এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কোর্সের অভাবও একটি বড় সমস্যা।
বর্তমানে পাকিস্তান মহাকাশ গবেষণার জন্য সম্পূর্ণরূপে চীনের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে উৎক্ষেপিত তিনটি স্যাটেলাইটই চীনের সহায়তায় পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালের মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনাটিও চীনের কাঁধে ভর করেই করা হচ্ছে। এর জন্য দুজন পাকিস্তানি মহাকাশচারীকে চীন প্রশিক্ষণ দেবে।
অন্যদিকে, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের ISRO আজ বিশ্ব মহাকাশ গবেষণায় এক অগ্রণী শক্তি হিসেবে পরিচিত। চন্দ্রযান, মঙ্গলযান এবং গগনযানের মতো সফল অভিযানগুলো ISRO-এর সক্ষমতার প্রমাণ। ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট নিয়ে ISRO নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে মহাকাশ অভিযান পরিচালনা করে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে মহাকাশ গবেষণায় সুপারপাওয়ার হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যেখানে পাকিস্তান এখনও ২০৪০ সালের মধ্যে মহাকাশে পা রাখার জন্য চীনের দিকে তাকিয়ে আছে।