ফের ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি! মাথা ফেটে রক্ত বইছে রেলযাত্রীর, আহত ৪

শিয়ালদা-নামখানা শাখার মল্লিকপুর স্টেশনে আবারও চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় কমপক্ষে চারজন যাত্রী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক পেয়ারা বিক্রেতার মাথা ফেটেছে। এই নিয়ে গত কয়েকদিনের মধ্যে দু’বার একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আহত ওই পেয়ারা বিক্রেতার নাম হোসেন আলি লস্কর, তাঁর বাড়ি ধপধপি এলাকায়। তিনি কলকাতায় পেয়ারা বিক্রি করে শিয়ালদা থেকে সন্ধ্যা ৬:৫৭ মিনিটের নামখানা লোকাল ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিনি ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টের গেটের কাছে বসেছিলেন। ট্রেনটি মল্লিকপুর স্টেশনে থামতেই একদল যুবক আচমকা পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এতে হোসেনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়। একই কামরার আরও তিন যাত্রী হাতে ও পায়ে চোট পেয়েছেন।

বারুইপুরে চিকিৎসা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
আহত হোসেনকে বারুইপুর স্টেশনে নামিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। অন্যান্য আহতদের সোনারপুর নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই ঘটনার পর রেল পুলিশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কামরার এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, হোসেনের সঙ্গে ট্রেনে এক ব্যক্তির বসা নিয়ে সামান্য বচসা হয়েছিল। সেই ব্যক্তি মল্লিকপুরে নেমে যাওয়ার পরেই পাথর ছোড়া শুরু হয়। এতে মনে করা হচ্ছে, ওই যাত্রীর উস্কানিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

আগের ঘটনায় মিঠুন মণ্ডলের করুণ দশা:
উল্লেখ্য, গত শনিবারও মল্লিকপুর স্টেশনে ঢোকার মুখে একই ধরনের হামলায় মিঠুন মণ্ডল নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পাথরের আঘাতে তাঁর মুখের ওপরের পাটির তিনটি দাঁত পড়ে যায় এবং ঠোঁটে সাতটি সেলাই পড়ে। ঘটনার পর টিকিট কাউন্টারে রেল কর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েও তিনি কোনো সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে হরিহরপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান, সেখান থেকে তাঁকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে রেফার করা হয়। দিনমজুর মিঠুনের পরিবার এখন তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে।

রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ:
মিঠুন মণ্ডলের পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর রেল বা জিআরপি-র পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এই অমানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সোনারপুর জিআরপিতে অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলের পক্ষ থেকে আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সোনারপুর রেল পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলছে।