সংসদের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, এনডিএ ও বিরোধী জোটের পাল্টাপাল্টি কৌশল! তপ্ত অধিবেশন

বহুদিনের বিরতির পর আজ সকালে এনডিএ (National Democratic Alliance) সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদের লাইব্রেরি ভবনে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে এনডিএ জোটের সমস্ত সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে একই ভবনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কক্ষে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরাও নিজেদের কৌশল নির্ধারণের জন্য বৈঠকে বসেন।

এই দুটি বৈঠকের পর থেকেই সংসদ চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকের পর বিজেপি এবং তার শরিক দলের সাংসদরা সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ শাসক ও বিরোধীদের এই সংঘাতের জেরে সংসদ অধিবেশন উত্তাল হতে পারে।

এই অধিবেশনে সরকার পক্ষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে বদ্ধপরিকর। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই বিরোধীদের বাধায় একাধিক বিল আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিয়েও আজ অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে। লাদাখে চীনা আগ্রাসনের বিষয়ে রাহুলের করা লাগাতার অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সম্প্রতি করা প্রশ্নকে সরকার পক্ষ একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। শীর্ষ আদালত রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করেছিল, “আপনি কী করে জানলেন, চীন আমাদের জমি দখল করেছে?”

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হবে। এই বৈঠকেই সম্ভবত এনডিএ জোটের কৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আজ সকালে এনডিএ সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সফলভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপস্থিত সাংসদরা ‘হর হর মহাদেব’ স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, বর্তমানে শ্রাবণ মাস হওয়ায় গোটা দেশজুড়ে শিবের উপাসনা চলছে।