বিশেষ: আজ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ঘুরছে পৃথিবী, কারণটা কী? এর ফলে কী প্রভাব হয় জানুন?

৫ আগস্ট এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘটেছে, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি আজ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি । বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কিছুটা বাড়ছে, যার কারণে দিনের দৈর্ঘ্য সামান্য কমে আসছে। আন্তর্জাতিক আর্থ রোটেশন অ্যান্ড রেফারেন্স সিস্টেম সার্ভিস (IERS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের দিনটি ২৪ ঘণ্টার চেয়ে প্রায় ১.২৫ থেকে ১.৫ মিলিসেকেন্ড কম ছিল। এর আগে, ৯ জুলাই ২০২৪-এ সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের দিন রেকর্ড করা হয়েছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ মিলিসেকেন্ড কম ছিল।
কেন দ্রুত ঘুরছে পৃথিবী?
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:
- চাঁদের প্রভাব: চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সাধারণত পৃথিবীর গতি কমিয়ে দেয়। কিন্তু যখন চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে দূরে অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কিছুটা বৃদ্ধি পায়। ৫ আগস্ট চাঁদের এই অবস্থান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন: হিমবাহ গলে সমুদ্রে প্রবাহিত হওয়ায় পৃথিবীর ভরের পুনর্বণ্টন হচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তন আসছে, যা ঘূর্ণনের গতি বাড়াতে পারে।
- ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ: বড় ধরনের ভূমিকম্প এবং অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ পৃথিবীর কেন্দ্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ঘূর্ণনের গতিতে পরিবর্তন আসে।
- চৌম্বক ক্ষেত্র: পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া কার্যকলাপও এর গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২০ সাল থেকে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হতে পারে।
দিনের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন এবং লিপ সেকেন্ড
একটি স্বাভাবিক দিন ৮৬,৪০০ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা হলেও, ৫ আগস্ট দিনটি ছিল প্রায় ৮৬,৩৯৮.৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ, এটি ১.৫ মিলিসেকেন্ড কম ছিল। যদিও এই পরিবর্তন খালি চোখে অনুভব করা সম্ভব নয়, তবে এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগে পৃথিবী ধীরে ঘোরার কারণে সময় সংশোধন করতে ‘লিপ সেকেন্ড’ যোগ করা হতো। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৭ বার লিপ সেকেন্ড যোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পৃথিবী দ্রুত ঘোরার কারণে বিজ্ঞানীরা ২০২৯ সালে প্রথমবারের মতো ‘ঋণাত্মক লিপ সেকেন্ড’ (negative leap second) যোগ করার কথা ভাবছেন। এর অর্থ, পারমাণবিক ঘড়ির সঙ্গে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সময়কে মেলাতে একটি সেকেন্ড বাদ দিতে হবে। জিপিএস এবং স্যাটেলাইটের মতো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার জন্য এই সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
নাসা এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলি এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বলে মনে করছে। তারা বলছে যে এটি দৈনন্দিন জীবনে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।