মধুসূদনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র, স্কুটির সিটের নীচেই চলত কারবার, খড়দহ-কাণ্ডে বড় আপডেট

খড়দহের রিজেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ ফ্যাক্টরি-মেড কার্তুজ ও রিভলভার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ফ্ল্যাটের মালিক মধুসূদনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোথা থেকে এই অস্ত্র এল এবং কেন তা মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
সোমবার খড়দহের এই অভিজাত আবাসন থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পর ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ মনে করছে, মধুসূদনের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের যোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মধুসূদন নিজের স্কুটিতে করেই অস্ত্র ও কার্তুজ ফ্ল্যাটে নিয়ে আসতেন এবং ডেলিভারিও করতেন। স্কুটির সিটের নিচে তিনি এই বেআইনি কারবার চালাতেন।
মহিলাদের মাধ্যমে অস্ত্র আনা-নেওয়া?
আবাসনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মধুসূদনের বাড়িতে প্রায়ই মহিলারা আসতেন। পুলিশের সন্দেহ, ওই মহিলাদের মাধ্যমেই অস্ত্র আনা-নেওয়া চলত। প্রতিবেশীদের চোখে ধুলো দিতে মধুসূদন বলতেন যে তাঁরা রান্নার বা কাজের লোক, কিন্তু কিছুদিন পর পরই সেই মহিলারা বদলে যেতেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আবাসনের বাসিন্দারা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে মধুসূদনকে আর ওই ফ্ল্যাটে থাকতে দেওয়া হবে না। আবাসনের গেটের তালাও বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক কারবার এবং ঘন ঘন বাসস্থান পরিবর্তন
পুলিশের জেরায় মধুসূদন স্বীকার করেছেন যে সুদে টাকা খাটানোর ব্যবসা ছিল তাঁর। সেই ব্যবসার লাভের টাকা দিয়েই তিনি অস্ত্র কেনাবেচার কারবারে নামেন। মধুসূদনের আরও দাবি, তার পুরনো মুদ্রা জমানো ও বিক্রির শখ ছিল।
পুলিশ মনে করছে, মধুসূদন তার বেআইনি কারবার জানাজানি হওয়ার ভয়ে ঘন ঘন বাসস্থান পরিবর্তন করতেন। আগে তিনি সোদপুরে থাকতেন, তারপর পানিহাটি এবং সবশেষে খড়দহে ফ্ল্যাট কেনেন। কোনো জায়গাতেই তিনি চার-পাঁচ বছরের বেশি থাকতেন না। পুলিশ বর্তমানে তার আরও যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।