প্রতিবেশীর সঙ্গে মহিলার চরম মুহূর্তের ভিডিও দেখল মেয়ে, অতঃপর….

স্বামীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা মেয়ে জানতে পেরে বাবাকে জানিয়ে দেওয়ায়, স্বামীকে খুন করে দেহ লোপাটের অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই মহিলা, তাঁর প্রতিবেশী এবং আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামের উদ্যোগ বিহারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম বিক্রম (৩৭)। তাঁর স্ত্রী সোনি দেবী (৩৫) গত ২৮ জুলাই থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী দু’দিন ধরে নিখোঁজ। এর তিন দিন পর সোনি দেবী আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তাঁর প্রতিবেশী রবীন্দ্র তাঁকে ধর্ষণ করেছে এবং সেই মুহূর্তের ভিডিও তুলে রেখেছে। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে।
পুলিশ রবীন্দ্রকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আসল ঘটনা সামনে আসে। রবীন্দ্র স্বীকার করেন যে সোনি দেবীর সঙ্গে তাঁর প্রায় এক বছর ধরে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও রবীন্দ্রর ফোনে ছিল, যা একদিন সোনি দেবীর মেয়ে দেখে ফেলে। সে তার বাবাকে পুরো বিষয়টি জানায়।
বিক্রম এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই সোনি দেবী ও রবীন্দ্র তাকে খুনের ছক কষেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ইন্টারনেটে খুন করে দেহ লোপাটের বিভিন্ন পদ্ধতি খুঁজে বের করে। গত ২৬ জুলাই কাজ থেকে ফেরার পথে বিক্রমকে গাড়িতে তুলে রবীন্দ্র ও তার সহযোগীরা দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে। পরে বিক্রমের দেহ মহম্মদপুর ঝারসা গ্রামের কাছে পুঁতে দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায় যে, এই খুনের সঙ্গে রবীন্দ্রর কাকা সানতরপলও জড়িত ছিলেন। তিনিই বিক্রমের দেহ পুঁতে দেওয়ার জন্য গর্ত খুঁড়ে রেখেছিলেন। খুনের সময় সোনি দেবী ফোনে রবীন্দ্রর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেই তিনি প্রথমে স্বামীর নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং পরে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। এই ঘটনায় সোনি দেবী, রবীন্দ্র এবং আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।