জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাড়ছে জল্পনা,

উপত্যকা কি পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পেতে চলেছে? এই গুঞ্জন এখন তুঙ্গে দেশের রাজনৈতিক মহলে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছেন। এর পাশাপাশি, রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে দেশের দুই শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এই জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়েই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।” যদিও এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে দুটি বিষয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। প্রথমত, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, যা অবশ্য নিশ্চিত। দ্বিতীয়ত, এবং সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা বিষয়টি হলো জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা। তবে এটি এখনও নিছকই জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনডিএ শরিকদের সমস্ত সাংসদদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসতে চলেছেন। সাধারণত এমন বৈঠক মাঝেমধ্যেই হয়, কিন্তু এই বৈঠকের সময়কালই জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একাংশ বলছেন, এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা বাতিলের ষষ্ঠ বর্ষপূর্তির দিন। আজ থেকে ছয় বছর আগে এই দিনেই জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মাসের প্রথম দু’দিনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপি প্রধান সাত শর্মা এবং লাদাখের গভর্নর কবিন্দর গুপ্তর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল, সোমবার, শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান জম্মু-কাশ্মীরের শিয়া গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট ইমরান রাজা আনসারিও। পরপর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলি উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। সব মিলিয়ে, জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।