রুদ্ধশ্বাস জয় ওভালে, তারুণ্যের ঝলকে ২-২ করল ভারত, শীর্ষে গিল

সকালেও হয়তো তারা জানতেন না দুপুরটা এমন ইতিহাস গড়তে চলেছে। বিলেতের মাটিতে অপ্রত্যাশিতভাবে অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকা শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারত ২-২ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ওভালে ১-২ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়াটা কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস আর অদম্য জেদের প্রতিফলন। এই জয়ের ফলে নতুন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত।

অভিজ্ঞতার অভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুভমন গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালের মতো তরুণ তুর্কিরা ইংল্যান্ড সফরে নিজেদের জাত চিনিয়েছেন। বৃষ্টি বিঘ্নিত পঞ্চম দিনেও তাদের স্বপ্ন এক মুহূর্তের জন্যও হাতছাড়া হয়নি। ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে যেখানে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসকে হতাশ দেখাচ্ছিল, সেখানে হাজার ওয়াটের হাসি শোভা পাচ্ছিল শুভমন গিলের মুখে। অপ্রত্যাশিতভাবে দলের নেতৃত্ব পেয়ে তিনি শুধু দলকে জেতাননি, সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক গিল পেসার মোহাম্মদ সিরাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “সিরাজের মতো বোলারকে পাওয়া যেকোনো অধিনায়কের স্বপ্ন। আজ সকালে সে প্রতিটি বলের জন্য সেরাটা দিয়েছে। প্রতিটি স্পেলে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছে। সত্যি বলতে কী, সিরাজ, প্রসিদ্ধর মতো বোলার থাকলে যেকোনো অধিনায়কের কাজটা সহজ হয়ে যায়।”

পুরো সিরিজ জুড়ে দুই দলের লড়াইয়ের তীব্রতা তুলে ধরে গিল আরও বলেন, “দুটো টিমই সেরা ক্রিকেটটা খেলেছে। ফল কী হতে পারে, না ভেবেই আমরা পঞ্চম দিন পা রেখেছিলাম। দুটো টিমই যে কারণে সেরা ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। আমরা দুর্দান্ত পারফর্ম করেছি। ভরপুর বিশ্বাস ছিল। এমনকি, গতকাল যখন চাপে ছিলাম, তখনও বিশ্বাসটা হারায়নি। আসলে আমরা খেলাটাকে নিজেদের দখলে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। ২-২ সিরিজ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, দুটো টিম সিরিজ জেতার জন্য কতটা মরিয়া ছিল।”

সিরিজ শুরুর আগেই শুভমন গিল ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ড সিরিজে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে চান। সেই লক্ষ্য পূরণ করে তিনি করেছেন ৭৫৪ রান। নিজের পারফরম্যান্সে তৃপ্তি প্রকাশ করে গিল বলেন, “আমি সিরিজের আগেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছিলাম। এই সিরিজে দলের সর্বোচ্চ রান করতে চেয়েছিলাম। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে। টেকনিক্যালি ও মেন্টালি নিজেকে ঠিক জায়গায় রাখতে পারাটা বড় ব্যাপার। এই ছয় সপ্তাহ ধরে একটাই জিনিস শিখেছি, কখনও হাল ছাড়তে নেই।”