কাকুর সঙ্গে মাকে ‘অশালীন’ অবস্থায় দেখে ফেলে মেয়ে, তারপর যা হলো? একসঙ্গে আত্মহত্যা পরিবারের ৪ সদস্যের

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে পারিবারিক কলহ এবার এক মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিল গোটা একটি পরিবারকে। মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় একসঙ্গে এক পরিবারের চার সদস্যের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে স্বামী, তাঁর মা, মেয়ে এবং এক ১৬ বছরের কিশোর রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৫ জুলাই রাতে এই চারজন আত্মহত্যা করেছেন। মৃতেরা হলেন মনোহর লোধি (৪৫), তাঁর মা ফুলরানি (৭০), মেয়ে শিবানী (১৮) এবং মনোহরের ১৬ বছরের ভাইপো। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মনোহরের স্ত্রী দ্রৌপদীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, মনোহরের ছোটবেলার বন্ধু সুরেন্দ্রর সঙ্গে দ্রৌপদীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সুরেন্দ্রর মনোহরের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত ছিল, আর সেই সুযোগেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি মনোহরের মেয়ে শিবানী তাদের দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে এবং তার একটি ভিডিও তুলে বাবাকে দেখায়। এই ঘটনা জানার পর মনোহর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে মনোহরের মাও এই বিষয়ে জানতে পারেন এবং পরিবারের সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারাও বিচলিত হয়ে পড়েন।
মনোহর তাঁর স্ত্রীকে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন, কিন্তু দ্রৌপদী এতে রাজি হননি। উল্টো তিনি মনোহরকে পণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর মনোহর তাঁর বন্ধু সুরেন্দ্রর কাছেও এই সম্পর্ক ভেঙে ফেলার অনুরোধ করেন, কিন্তু সুরেন্দ্রও রাজি হননি। স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা এবং মিথ্যা মামলার হুমকির মুখে পড়ে হতাশ হয়ে মনোহর তাঁর মা, মেয়ে এবং ভাইপোকে নিয়ে এই চরম পদক্ষেপ নেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই মনোহরের স্ত্রী দ্রৌপদী এবং তাঁর বন্ধু সুরেন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।