দূরত্ব ডিসকাউন্ট’ কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ইরান-পাকিস্তান

নিজেদের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে এবার বাণিজ্যিক সুবিধা হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে ইরান ও পাকিস্তান। ‘দূরত্ব ডিসকাউন্ট’ বা ভৌগোলিক নৈকট্যকে মূল হাতিয়ার করে দুই দেশ তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য স্থির করেছে। রবিবার পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কমল খান এবং ইরানের শিল্পমন্ত্রী মহম্মদ আতাবাকের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের দুই দিনের সরকারি পাকিস্তান সফরে তাঁর সঙ্গী হিসেবে এসেছেন শিল্পমন্ত্রী মহম্মদ আতাবাক। এই সফরের অংশ হিসেবেই দুই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রীরা দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কমল খান বলেন, “যদি আমাদের ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে আগামী দিনে পাকিস্তানের ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খুব সহজে ৫০০ থেকে ৮০০ মার্কিন ডলারের গন্ডি পেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।” তার কণ্ঠে আশাবাদ ঝরে পড়ে।
একই সুর শোনা গেছে ইরানের প্রেসিডেন্টের গলাতেও। পাকিস্তানে আসার আগে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আশা করছি এই সফরের পর পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে হাজার কোটি মার্কিন ডলারের গন্ডি ছুঁয়ে যাবে।” উভয় দেশের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে তাদের স্থলসীমানা যে একটি ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হয়ে উঠবে, সে কথাই বারবার উঠে এসেছে।
রবিবারের বৈঠক শেষে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের কাছে ভৌগোলিক অবস্থানটাই সবচেয়ে লাভের জায়গা। পাকিস্তান ও ইরানের এই দূরত্বের ডিসকাউন্টটা অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। যদি আমরা তা না করি, তাহলে সময় ও অর্থের ক্ষতি হবে বলেই ধারণা।” এই উদ্যোগ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।