ইডি-সিবিআই তদন্ত চাইলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যের একাধিক ঘটনায় এতদিন বিরোধী দলগুলিই কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এবার সেই ধারা ভেঙে উল্টো ছবি দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গে। খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কীর্তি আজাদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর তদন্ত চেয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

কয়লা খনি (ইসিএল) এলাকায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডিকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তার দাবি, খনি এলাকায় একাধিক ক্ষেত্রে এই দুর্নীতি চলছে। এই চিঠির প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও সাংসদরা প্রকারান্তরে মেনে নিচ্ছেন যে রাজ্য পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করে না।

সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল সাংসদের লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠিটি ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, “অবশেষে তৃণমূল সাংসদরাও সিবিআই এবং ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তদন্তের দাবি জানাতে শুরু করলেন। সাংসদ কীর্তি আজাদের এই চিঠি থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।” একই সাথে তিনি আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন, “এটা অবাক করার মত বিষয়, যাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল সাংসদের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গ বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।”

এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অতি-সক্রিয়তা’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ তদন্তের অভিযোগ তোলে, সেখানে তাদেরই এক সাংসদের কেন্দ্রীয় তদন্ত চেয়ে চিঠি পাঠানো নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে রাজ্য পুলিশের কার্যকারিতা এবং দুর্নীতির অভিযোগগুলির তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠে গেল। আগামী দিনে এই চিঠি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।