‘স্কুলে কাদা-জল, শৌচালয় নেই’, বাঁকুড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অভিভাবকদের অভিনব প্রতিবাদ

এক হাঁটু কাদা পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত, পানীয় জলের অভাব এবং শৌচালয়ের চরম দুর্দশা – এই সমস্ত অব্যবস্থার প্রতিবাদে বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া গ্রামের ধগড়িয়া প্রাইমারি স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে অভিনব বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। শুক্রবারের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আন্দোলনকারী অভিভাবক হেমন্ত কর্জনা, সুকান্ত দত্ত, অনন্ত হেমব্রম এবং তপন কর্জনা জানান, ধগড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তাটি বর্ষার জলে কাদাময় এবং অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। এতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ে পানীয় জলের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৌচালয়ের অবস্থাও অত্যন্ত বেহাল।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে চরম অব্যবস্থা বিরাজ করছে এবং এর ফলে শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছে। এই দুরবস্থার কারণে অনেক শিশুই স্কুলে আসতে চাইছে না। তাদের সন্তানেরা এমন প্রতিকূল পরিবেশে পড়াশোনা করুক, তা তারা মেনে নিতে নারাজ। তাই বাধ্য হয়েই তারা বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে একদিনের জন্য প্রতিবাদে নেমেছেন।
অভিভাবকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তাহলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তারা বলেন, “শিশুদের কষ্ট ও ঝুঁকি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষা দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিদ্যালয়ের এই দুর্দশা এবং অভিভাবকদের প্রতিবাদ শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল অবকাঠামো এবং গ্রাম্য এলাকার স্কুলগুলির প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিনব প্রতিবাদের পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেয়।