ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কি নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত? জেনেনিন কি বললো ভারত?

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্য বলে হোয়াইট হাউস দাবি করার পর, ভারত এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রইল। বরং, এই প্রশ্ন হোয়াইট হাউসকেই জিজ্ঞাসা করার কথা জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, “হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের ক্ষেত্রে, দয়া করে প্রশ্নটি তাদের কাছেই নিয়ে যান।” এর মাধ্যমে ভারত এই বিতর্কে সরাসরি জড়াতে চায়নি, বরং কূটনৈতিকভাবে দূরত্ব বজায় রেখেছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি:
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দাবি করেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে চলমান একাধিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও ইরান, রুয়ান্ডা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ভারত ও পাকিস্তান, সার্বিয়া ও কসোভো এবং মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। লিভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ছয় মাসের ক্ষমতায় থাকাকালীন গড়ে প্রতি মাসে প্রায় একটি শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে।” এই দাবি ট্রাম্পের সমর্থকরা দীর্ঘ দিন ধরেই করে আসছেন।
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক:
ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনার পাশাপাশি, রণধীর জয়সওয়াল ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা অভিন্ন স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, “এই অংশীদারিত্ব বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এবং চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে। দুই দেশ যে বাস্তব এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমরা তার উপর মনোনিবেশ করছি এবং আত্মবিশ্বাসী যে সম্পর্কটি এগিয়ে যাবে।”
ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক:
একই সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক একটি ‘সময়-পরীক্ষিত অংশীদারিত্ব’। জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, “যে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের যোগ্যতার উপর দাঁড়িয়ে আছে এবং তৃতীয় কোনো দেশের প্রিজম থেকে দেখা উচিত নয়। ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে, আমাদের একটি স্থিতিশীল এবং সময়-পরীক্ষিত অংশীদারিত্ব রয়েছে।”
সামগ্রিকভাবে, ভারত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে চলেছে, যেখানে বিতর্কিত বিষয়ে সরাসরি পক্ষ না নিয়ে বরং প্রাসঙ্গিক পক্ষকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে।